22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরকারি কর্মকর্তাদের নতুন বেতন কাঠামোতে অতিরিক্ত ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়

সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন বেতন কাঠামোতে অতিরিক্ত ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়

মঙ্গলবার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি জানান, প্রস্তাবিত কাঠামোকে সম্পূর্ণ রূপে কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে এবং এই ব্যয়ের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারকে নিতে হবে। বর্তমান সরকারকে আর্থিক সংস্থান কীভাবে বের করবে তা নিজেই নির্ধারণ করতে হবে, আর ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এই কাঠামো বাস্তবায়ন না করার সুযোগ থাকবে।

ড. সালেহউদ্দিনের মতে, পে কমিশন কর্তৃক প্রণীত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আজ বিকেল পাঁচটায় জমা হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান এবং অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট হস্তান্তর করবেন, যেখানে অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে মাত্র বিশ দিন বাকি থাকায় ড. সালেহউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, কমিশনের সুপারিশ সরাসরি বাস্তবায়ন হয় না। রিপোর্ট পর্যালোচনার জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তবে তিনি বর্তমান সরকারকে এই কাঠামো অবিলম্বে কার্যকর করার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ব্যয় বর্তমানে বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে, নতুন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এই অতিরিক্ত ব্যয় কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে ড. সালেহউদ্দিনের মন্তব্য স্পষ্ট: পরবর্তী সরকারকে আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিকভাবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুর দিকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ বিশ হাজার টাকার উপরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ড. সালেহউদ্দিন উল্লেখ করেন, এই অতিরিক্ত বরাদ্দ নতুন কাঠামোর কিছু ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে, তবে পুরো ব্যয় এখনো পরবর্তী সরকারের ওপর নির্ভরশীল।

বেতন বৃদ্ধি বাজারে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বস্ত করেন, এতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না এবং এটি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না। এছাড়া, তিনি দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই ব্যয় পরিকল্পনা যথাযথভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

ড. সালেহউদ্দিনের বক্তব্য অনুসারে, নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। একাধিক কমিটি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিন থেকে চার মাসের সময় লাগতে পারে। তাই, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত সময়ের মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন করা বাস্তবিকভাবে কঠিন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সারসংক্ষেপে, সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি পরিকল্পনা আর্থিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। অতিরিক্ত ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরবর্তী সরকারের আর্থিক দায়িত্বে থাকবে, এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এই বিষয়টি দেশের আর্থিক নীতি ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments