থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত SAFF নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপের বুধবারের ম্যাচে বাংলাদেশ নারী দল ৬-৩ স্কোরে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে গ্রুপের শীর্ষে উঠে দশ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি চারটি ম্যাচে দশ পয়েন্ট অর্জন করে, যা ইন্ডিয়ার নয় পয়েন্টের উপরে নিয়ে যায়।
চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে, আর ইন্ডিয়া দ্বিতীয় স্থানে আটকে আছে। টেবিলে শীর্ষে থাকা দলটি এখন পরবর্তী রাউন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুত।
প্রথমার্ধের শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে শ্রীলঙ্কা দ্রুত দুই গোলের সুবিধা নিয়ে ২-০ নেতৃত্ব নেয়। শ্রীলঙ্কার দ্রুত আক্রমণ এবং সঠিক পাসের ফলে বাংলাদেশ প্রথমে চাপের মুখে পড়ে।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক শোপনা আক্তার জিলির পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে ছিল, যা শ্রীলঙ্কার দুইটি গোলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও দলটি অধিক বলের মালিকানা পেয়েছিল, তবে গোলরক্ষকের ত্রুটি স্কোরে প্রভাব ফেলেছে।
দলটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে, ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন প্রথমার্ধে দুইটি গোলের মাধ্যমে সমতা বজায় রাখে। উভয় গোলই তার সহকর্মী কৃষ্ণা রানি সরকারীর পাসে তৈরি হয়।
কৃষ্ণা রানি সরকারীও প্রথমার্ধে একবার গোল করেন, ফলে স্কোর ২-২ সমান হয়। তাদের সমন্বিত খেলা এবং দ্রুত পাসিংই বাংলাদেশের রক্ষণশক্তি ভেঙে দিতে সাহায্য করে।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে, অতিরিক্ত চারটি গোল যোগ করে। শ্রীলঙ্কা এখন আর ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারছিল না।
কৃষ্ণা রানি সরকারী দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুইটি গোলের মাধ্যমে নিজের স্কোরকে দ্বিগুণ করেন, যা দলের আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে। তার সুনির্দিষ্ট শুটিং এবং চলাচলই ম্যাচের মূল চালিকাশক্তি ছিল।
মাতসুশিমা সুমায়া এবং মাসুরা পারভীন প্রত্যেকেই এক করে গোল করে স্কোরকে ছয় পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। তাদের গোলগুলো দলটির আক্রমণাত্মক বিকল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
শ্রীলঙ্কা শেষ মুহূর্তে ইমেশা কানকানামলাগের গোলের মাধ্যমে একটি সান্ত্বনা গোল যোগ করে, ফলে চূড়ান্ত স্কোর ৬-৩ হয়। ইমেশা প্রথমার্ধে শ্রীলঙ্কার শানু পাসকারানের গোলের পর নিজের প্রথম গোল করেন।
ম্যাচের শেষের সেকেন্ডে শ্রীলঙ্কার এই একক গোলই তাদের একমাত্র স্কোর হয়ে থাকে, তবে তা ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি। বাংলাদেশ পুরো ম্যাচ জুড়ে অধিকতর বলের দখল এবং দ্রুত আক্রমণ বজায় রাখে।
এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ গ্রুপে শীর্ষে উঠে, পরবর্তী রাউন্ডে টেবিলের শীর্ষস্থান বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জিং ম্যাচের মুখোমুখি হবে। দলটির সমন্বিত খেলাধুলা এবং দুজন ক্যাপ্টেনের দু’গুণ গোলই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।



