মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পথে, যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটি যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিমানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ সনাক্ত করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে আসে। রাত ১১টা ৭ মিনিটের দিকে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে, যা ঘটনার তাত্ক্ষণিক সমাধানকে নির্দেশ করে।
হোয়াইট হাউসের বিবরণে এই সমস্যাটিকে “সামান্য বৈদ্যুতিক বিভ্রাট” বলা হয়েছে। যদিও প্রধান বিমানটি ডাভোসের উদ্দেশ্যে তৎক্ষণাৎ রওনা হতে পারেনি, তবে ট্রাম্পের সফর সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়নি। বিমানটি ফিরে আসার পর, প্রেসিডেন্ট ও তার সঙ্গীরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে, দুইটি ছোট বিমান ব্যবহার করে পুনরায় ডেভোসের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
বিকল্প বিমানগুলো রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ডেভোসের দিকে রওনা হয়, যা মূল সময়সূচি অনুযায়ী সামান্য বিলম্বের পরেও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করে। এ সময়ে ট্রাম্পের নিরাপত্তা দল এবং ফ্লাইট স্টাফরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবেলা করা যায়।
এয়ারফোর্স ওয়ানের এই বৈদ্যুতিক ত্রুটি প্রথমবারের নয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে, ট্রাম্পের হেলিকপ্টারেও একই রকম যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই সময়ে হাইড্রলিক সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
অবতরণ করার পর, প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ব্যাকআপ হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছানো হয়। এই দুইটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিমান চলাচলে পুনরাবৃত্তি হওয়া যান্ত্রিক সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বৈদ্যুতিক ও হাইড্রলিক ত্রুটির পুনরাবৃত্তি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ দল এখন থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান এবং অন্যান্য সরকারি বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপকভাবে রিপোর্ট হয়েছে, তবে সরকারী সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি এবং সব ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হয়েছে।
ডেভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামটি ১-২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যেখানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি, বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা হবে। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
প্রেসিডেন্টের যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়ার পর, ডেভোসে তার সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
বিমান চলাচলে পুনরাবৃত্তি হওয়া যান্ত্রিক সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে সরকারি বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দিতে পারে।



