শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আজ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওডিআই সিরিজের জন্য নির্বাচিত দলে দুইজন মূল ফাস্ট বোলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দুশমান্থা চামীরা এবং ধনঞ্জয় দে সিলভা, যারা সাম্প্রতিক আঘাতের কারণে পূর্ববর্তী সিরিজে অংশ নিতে পারেননি, এখন পুনরুদ্ধার সম্পন্ন করে দলের সঙ্গে ফিরে আসছেন।
বোলারদের পুনরায় নির্বাচনের পেছনে মূল কারণ হল তাদের গতিশীল গতি এবং শেষ ওভারগুলোতে গৃহীত চাপ। চামীরা, যিনি গত বছর একাধিক উচ্চগতির ডেলিভারি দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছাপ ফেলেছিলেন, তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে পুরোপুরি ফিট বলে ঘোষিত হয়েছেন। একইভাবে, ধনঞ্জয় দে সিলভা, যিনি মাঝারি গতি ও সুইংয়ের সমন্বয় দিয়ে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ করেন, তার পুনর্বাসন প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করেছে।
দল নির্বাচনের ঘোষণার সময় কোচ দলকে বললেন, “দুইজন বোলারই আমাদের পেসিং আক্রমণের মূল স্তম্ভ। তাদের ফিরে আসা আমাদের ব্যাটিং ইউনিটকে সমর্থন করবে এবং শর্তাবলীর ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “চামীরার গতি এবং দে সিলভার সুইং আমাদের কৌশলগত বিকল্পকে সমৃদ্ধ করবে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বাটারফ্লাই পিচে।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওডিআই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা দলকে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। সিরিজটি জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে এবং লর্ডস, ওয়েস্টমিনস্টার এবং এডিনবার্গের মতো ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলোতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন‑আপের পাশাপাশি বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে চামীরা ও দে সিলভার পারফরম্যান্স।
চামীরার ফিরে আসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি গত বছর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিক্সার ও উইকেটের মাধ্যমে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। তার গতি ও লাইন‑লেংথের নিয়ন্ত্রণ শ্রীলঙ্কার পেসিং ব্যাককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দে সিলভা তার সুইং এবং পরিবর্তনশীল গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ধোঁকা দিতে পারদর্শী, যা ইংল্যান্ডের টেকসই ব্যাটিং লাইন‑আপের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের মতে, এই সিরিজের পর দলটি এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিতে হবে, তাই এই ওডিআইগুলোকে টিমের ফর্ম ও কন্ডিশন চেকের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, “চামীরা ও দে সিলভা দুজনেই আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তাদের পারফরম্যান্স আমাদের পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে।”
সামগ্রিকভাবে, শ্রীলঙ্কা দলের এই নির্বাচন বোলিং দিকের শক্তি পুনরুদ্ধার এবং ব্যাটিং ইউনিটকে সমর্থন করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। চামীরা ও দে সিলভার ফিরে আসা শুধু ব্যক্তিগত রিকভারি নয়, বরং পুরো দলের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সিরিজের ফলাফল নির্ভর করবে এই দুই বোলারের ফর্ম, শর্তাবলীর সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলের সামগ্রিক সংহতির ওপর।
ইংল্যান্ডের সঙ্গে এই ওডিআই সিরিজের পর শ্রীলঙ্কা দলকে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিতে হবে, তাই এই ম্যাচগুলোকে টিমের পারফরম্যান্সের সূচক হিসেবে দেখা হবে। উভয় বোলারই তাদের ফিটনেস ও ফর্মের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে চায়, যাতে শ্রীলঙ্কা দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকতে পারে।



