23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞাননাসা থেকে অবসর নিলেন ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানো সুনীতা উইলিয়ামস

নাসা থেকে অবসর নিলেন ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানো সুনীতা উইলিয়ামস

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২৭ ডিসেম্বর সুনীতা উইলিয়ামসের অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। ১৯৯৮ সালে নাসায় যোগদান করা এবং ২৭ বছরের কর্মজীবনের পর তিনি এখন ৬০ বছর বয়সে কর্মজীবন শেষ করছেন। ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটিয়ে তিনি নাসার ইতিহাসে দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড ধারণ করেন।

সুনীতা ১৯৯৮ সালে নাসার কর্মী হিসেবে যোগ দেন এবং তিনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) মিশনে অংশ নেন। তার মোট মহাকাশে থাকা সময় ৬০৮ দিন, যা নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই সময়কালে তিনি মোট নয়টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেন।

প্রথমবারের মতো তিনি মহাকাশে যান ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে, স্পেস শাটল ডিসকভারি দিয়ে নাসার এক্সপেডিশন ১৪/১৫ মিশনে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। এই মিশনে তিনি চারটি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেন।

দ্বিতীয় মিশন ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি ১২৭ দিনের দীর্ঘকালীন মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন। এই মিশন তাকে আইএসএসের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

তৃতীয় ও শেষ মিশন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে মার্কিন নভোচারী বুচ উইলমোরের সঙ্গে যাত্রা করেন। যদিও মিশনের পরিকল্পনা মাত্র দশ দিনের ছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে দুজনই প্রায় দশ মাস, অর্থাৎ ২৮৬ দিন, মহাকাশে আটকে থাকেন এবং ২০২৫ সালের মার্চে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সুনীতার অবদানকে ‘মানববাহী মহাকাশ অভিযানের পথিকৃৎ’ বলে প্রশংসা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দক্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি নিম্ন কক্ষপথের বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশনের পথও সুগম করেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন স্বপ্নের দরজা খুলে দেবে।

শিক্ষাগত দিক থেকে সুনীতা ফিজিক্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। নাসায় যোগদানের আগে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে সেবা করেন, যেখানে হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমানসহ চল্লিশেরও বেশি ধরণের উড়োজাহাজে চার হাজার ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

মোট নয়টি স্পেসওয়াকের সময় তিনি ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট মহাকাশে কাটিয়েছেন, যা কোনো নারী নভোচারীর মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া তিনি মহাকাশে প্রথম মারাথন দৌড়ের রেকর্ডধারী, যা তার শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করে।

অবসর নিয়ে সুনীতা বলেন, ‘মহাকাশ আমার জন্য সর্বদা বিশেষ স্থানেই থাকবে; এখানে কাজ করা এবং পৃথিবীকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা আমার জন্য অপরিসীম গর্বের বিষয়।’ তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মহাকাশের স্বপ্ন অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেন।

মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক মিশনের দ্রুত বিকাশের সময়, সুনীতার ক্যারিয়ার নতুন প্রজন্মের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে। আপনি কি মনে করেন, তার অভিজ্ঞতা কীভাবে দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের পথপ্রদর্শক হতে পারে? আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments