যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নেটো জোটের কয়েকটি প্রধান কমান্ড সেন্টারে কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় দু’শো পদ বাদ দেওয়া হবে, যা সামরিক ও গোয়েন্দা পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাজের তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও, ইউরোপীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
হ্রাসের তালিকায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেটো ইন্টেলিজেন্স ফিউশন সেন্টার, ব্রাসেলসের অ্যালাইড স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সেস কমান্ড এবং পর্তুগালভিত্তিক সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনাকারী স্ট্রাইকফোর্নেটো অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও নেটোর সমজাতীয় অন্যান্য সংস্থাগুলিকেও এই কর্মী হ্রাসের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।
এই পদক্ষেপের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ সরকারী সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পশ্চিম গোলার্ধে সামরিক সম্পদ পুনর্বণ্টনের ইচ্ছার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি জার্মানিতে অবস্থান করছে। যদিও মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বড়, তবে এই কর্মী হ্রাসের মাত্রা সামগ্রিক উপস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না।
ইউরোপীয় নেতারা নেটোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচারণা এবং নেটোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা সামাজিক মিডিয়া পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে চীন ও রাশিয়াকে ‘কাল্পনিক দানব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ইউরোপে নেটোর অভ্যন্তরে ভূখণ্ডগত উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো নেটোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ফলে নেটোর সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা এখনই বিশ্লেষণের বিষয়। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনার দরকারি হতে পারে।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ এবং নেটোকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা পোস্টের ফলে ইউরোপে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেটোর অভ্যন্তরে ভূখণ্ডগত অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে জোটের সংহতি পরীক্ষা করে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইউরোপ থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
নেটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মী হ্রাসের সিদ্ধান্ত কীভাবে জোটের কাঠামো ও কৌশলকে প্রভাবিত করবে, তা পরবর্তী মাসগুলোতে স্পষ্ট হবে। নেটোর শীর্ষ নেতৃত্ব ও ইউরোপীয় সরকারগুলির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই পরিবর্তনের প্রভাব নির্ধারণের চেষ্টা চলবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় নেটো কমান্ড সেন্টারে কর্মী হ্রাসের পরিকল্পনা সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনবে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে নেটো জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ইউরোপীয় দেশগুলির স্বনির্ভরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



