২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখার কেন্দ্রের ভিড়ভাট্টা ঘরে বসে দেখা গেল, অধিকাংশ ছাত্রের জমা করা প্রবন্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহায়তার চিহ্ন স্পষ্ট। এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, ChatGPT‑এর মতো জেনারেটিভ টুলগুলো এখন শিক্ষার্থীদের লেখালেখি প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে, স্বতঃস্ফূর্ত চিন্তা ও মৌলিকতা কমে গিয়ে অধিকাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া টেক্সটের উপর নির্ভরশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে, দেশের জাতীয় বিদ্যালয় পাঠ্যক্রমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলেছে। মিলেস্টোন স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুল হক সাদিম চৌধুরী উল্লেখ করেন, বর্তমান পাঠ্যক্রম AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ। তিনি বলেন, অধিকাংশ স্কুলে এখনও রুটিন শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের লেখালেখি কাজকে প্রক্রিয়া নয়, ফলাফল হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই ধরণের শিক্ষণ পদ্ধতি AI টুলের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেও বড় ঘাটতি রয়েছে। চৌধুরীর মতে, শিক্ষকরা AI‑কে শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। তদুপরি, বেতন কাঠামো দুর্বল হওয়ায় অনেক শিক্ষক পার্ট‑টাইম টিউশন ক্লাসে মনোনিবেশ করেন, যা তাদের মূল দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে, শিক্ষার্থীরা AI টুল ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার সময় শিক্ষকের গাইডেন্সের অভাব অনুভব করে।
আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়গুলোতে কিছুটা আলাদা পরিস্থিতি দেখা যায়। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকায় AI টুলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সহজ। তবে, এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়; অধিকাংশ দেশীয় বিদ্যালয় এখনও সীমিত সম্পদে কাজ করে। ফলে, AI‑এর সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি উভয়ই সমানভাবে সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছায় না।
শিক্ষা নীতি নির্ধারক ও বিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই AI‑কে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, AI ব্যবহার সংক্রান্ত নীতি ও নৈতিক নির্দেশিকা, এবং রুটিন শিক্ষার পরিবর্তে সমালোচনামূলক চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, শিক্ষার্থীদের AI টুলের সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই পরিবর্তনকে সফল করতে হলে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। AI টুলের সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তার অপব্যবহার রোধের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি করা উচিত।
শেষে, পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক প্রশ্ন: আপনার বিদ্যালয় বা কলেজে AI টুলের ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, এবং আপনি কীভাবে নিজের শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে AI‑কে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন?



