বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সময়ে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ভর্তি হওয়া তহসান ফারজিন, ইনস্টাগ্রাম ভিত্তিক ফটো বিক্রির মাধ্যমে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক ৭০০ টাকার বিনিয়োগকে ৩৫ লাখ টাকার আয়ে রূপান্তরিত করা তার উদ্যোগের মূল দিক।
তহসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার চাপ কম থাকায় তিনি নিজের সঞ্চয় দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবসা চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হলেও, কঠিন কোর্সের সঙ্গে ব্যবসা সামলাতে সময়ের অভাবের কারণে তিনি ব্যবসা-সম্পর্কিত বিষয়ের দিকে ঝুঁকেন।
বিএবিএ-তে পরিবর্তন করার পর তহসান ব্যবসা ও শিক্ষার সমন্বয়কে সুবিধাজনক বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ক্লাসে শিখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়ে তিনি তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিএবিএ কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত তত্ত্বগত ভিত্তি ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তহসান বিশ্বাস করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা কঠিন, তবে নিজের ব্যবসা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগের সম্ভাবনা থাকত।
তহসান গর্বের সঙ্গে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকে তিনি পিতামাতার কাছ থেকে একটিও টাকা নেননি; টিউশন ফি থেকে দৈনন্দিন খরচ পর্যন্ত সবকিছুই নিজের আয় দিয়ে মেটিয়েছেন। এই স্বনির্ভরতা তাকে আর্থিক স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করেছে।
ব্যবসা চালানোর সময় পড়াশোনার সঙ্গে সময়ের টানাপোড়েনের ফলে তার সিজিপিএ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবু তিনি লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করতে থাকেন। তহসানের মতে, ব্যবসা এবং শিক্ষার সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদে উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি এনে দেয়।
তার গল্প থেকে উদ্ভূত কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হতে পারে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সুবিধা নেয়া উচিত; তাছাড়া শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত পণ্য বা সেবা বেছে নিলে শেখা জ্ঞান তৎক্ষণাৎ প্রয়োগ করা যায়। সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা গড়ে তোলা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং নিয়মিত আর্থিক হিসাব রাখা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত, নিজের আর্থিক দায়িত্ব স্বীকার করে পিতামাতার ওপর নির্ভর না করে স্বনির্ভরতা গড়ে তোলা ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।
এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব জাগিয়ে তুলতে পারে এবং শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করে। তহসানের অভিজ্ঞতা দেখায়, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দিয়ে ছাত্র-উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব।



