বেঙ্গালুরু ভিত্তিক অমাগি মিডিয়া ল্যাবস, যা টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং চ্যানেলের জন্য ক্লাউড সফটওয়্যার সরবরাহ করে, বুধবার তার প্রথম পাবলিক অফারিং সম্পন্ন করে। কোম্পানি প্রায় ১৭.৮৯ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ১৯৬ মিলিয়ন ডলার) মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রবেশ করে।
প্রস্তাবিত শেয়ার মূল্যের তুলনায় ১২ শতাংশ কমে, শেয়ারগুলো রুপি ৩১৮ দরে খোলা হয়। এরপর দাম রুপি ৩৫৬.৯৫ পর্যন্ত উঠে, পরে রুপি ৩৪৮.৮৫-এ স্থিত হয়, যা কোম্পানির মোট বাজারমূল্যকে রুপি ৭৫.৪৪ বিলিয়ন (প্রায় ৮২৫.৮১ মিলিয়ন ডলার) হিসেবে নির্ধারণ করে।
অমাগি শেষবার নভেম্বর ২০২২-এ প্রাইভেট ফান্ডিং রাউন্ডে ১.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন পায়, যেখানে জেনারেল আটলান্টিকের নেতৃত্বে ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়। সেই সময়ের তুলনায়, বর্তমান আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা প্রস্তাবিত শেয়ারের ৩০ গুণের বেশি চাহিদা দেখায়।
কোম্পানির আয় প্রধানত বিদেশি বাজার থেকে আসে; যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭৩ শতাংশ এবং ইউরোপ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ আয় অর্জিত হয়। বাঙালি বাজারে আয় তুলনামূলকভাবে কম, যা অমাগিকে ভারতীয় এক্সচেঞ্জে এক ধরনের রপ্তানি-প্রথম প্রযুক্তি তালিকাভুক্তি করে তুলেছে।
আইপিওতে নতুন শেয়ার ইস্যু রুপি ৮.১৬ বিলিয়ন (প্রায় ৮৯.৩৩ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রায় ২৬.৯ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে অংশ নেয়। মূল পরিকল্পনা থেকে ইস্যু পরিমাণ ও বিক্রয় শেয়ারের সংখ্যা কমিয়ে, মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৪.২ মিলিয়ন থেকে হ্রাস করা হয়।
নরওয়েস্ট ভেঞ্চার পার্টনারস, অ্যাক্সেল এবং প্রিমজি ইনভেস্টের মতো প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীরা এই বিক্রয়ে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বস্কর সুব্রামণিয়ান উল্লেখ করেন যে, বিক্রয়কৃত শেয়ারগুলো মোট হোল্ডিংয়ের খুবই ছোট অংশ, এবং প্রতিষ্ঠাতারা কোনো শেয়ার বিক্রি করেননি। তিনি এটিকে “দীর্ঘ যাত্রার একটি পিটস্টপ” হিসেবে বর্ণনা করেন।
অ্যাক্সেল আইপিও পরবর্তী সময়ে প্রায় ১০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখে, যা প্রায় রুপি ১০৮ দরে কেনা শেয়ারের তুলনায় প্রায় ৩.৩ গুণ লাভ নিশ্চিত করে। এই লাভের পরিমাণ নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় রিটার্নের ইঙ্গিত দেয়।
অমাগির তালিকাভুক্তি ভারতীয় বাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক রপ্তানি কোম্পানির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেয়ারবাজারে এখনো বেশিরভাগ আইপিও ভোক্তা-সামগ্রী বা সেবা ভিত্তিক কোম্পানির হয়, আর অমাগি ক্লাউড সফটওয়্যার সেক্টরে প্রথমবারের মতো বড় তহবিল সংগ্রহ করে। এটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে আন্তর্জাতিক বাজারে সফলতা অর্জনকারী ব্যবসার জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।
তবে, ভবিষ্যতে কিছু ঝুঁকি অবশিষ্ট রয়েছে। কোম্পানির আয় অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল, যা মুদ্রা পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক নীতির পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া, ক্লাউড ভিডিও সেবা বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র, এবং নতুন প্রযুক্তি বা মূল্য নির্ধারণের কৌশল কোম্পানির মার্জিনকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অমাগি মিডিয়া ল্যাবসের আইপিও ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি-রপ্তানি মডেলের একটি নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে। শেয়ার মূল্যের প্রাথমিক ওঠানামা, প্রতিষ্ঠাতাদের শেয়ার না বিক্রির সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের লাভজনক রিটার্ন সবই বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠায়। তবে, আন্তর্জাতিক আয়ের ওপর নির্ভরতা ও সেক্টরের প্রতিযোগিতামূলক চাপ ভবিষ্যতে কোম্পানির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।



