আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের খবর গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রথমবার এই তথ্য জানানো হয় এবং পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে তা নিশ্চিত করা হয়। ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের এক বছরের চুক্তি ২৬ নভেম্বর শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তা পুনর্নবীকরণ করা হয়নি, ফলে তিনি প্রায় দুই মাস আগে থেকেই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম জানান, চুক্তি শেষ হওয়ার পর ক্যাডম্যানকে পুনরায় কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ক্যাডম্যানের শেয়ার করা বিবৃতিতে তিনি ব্যক্তিগত কারণের জন্য চুক্তি বাড়াতে না চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সময়ে পদত্যাগের পেছনের কারণ নিয়ে মন্তব্য না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগে তার এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ পায়।
লন্ডন ভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ক্যাডম্যানের নিয়োগের সময় থেকেই বিভিন্ন মতবিরোধ দেখা দেয়। তিনি একসময় জামায়াতে ইসলামের বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং আইসিসির রায়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ২০১৪ সালে তুর্কি মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে পূর্বে শাসনরত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আইসিসিতে আবেদন করার সময়ও তিনি জড়িত ছিলেন।
গত আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্যাডম্যান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ‘গণহত্যা’ মামলাগুলো আইসিসিতে পাঠানোর পরামর্শ দেন। একই সময়ে চাঁনখাঁরপুলের ছয় হত্যার মামলার রায়ের তারিখ মঙ্গলবার নির্ধারিত থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। ক্যাডম্যানের অনুপস্থিতিতে প্রসিকিউশন টিম এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে জানায়, ক্যাডম্যানের চুক্তি নবায়ন না হওয়া আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং চলমান মামলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে, বর্তমান মামলাগুলোর বিচার চালিয়ে যাবে। এই পরিবর্তন দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



