22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প ও তেহরান পারস্পরিক হত্যার হুমকি, যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে

ট্রাম্প ও তেহরান পারস্পরিক হত্যার হুমকি, যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ছে

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের প্রতি একটি তীব্র সতর্কতা পুনরায় প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বলেন যে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতার ওপর কোনো হত্যার পরিকল্পনা সফল করে, তবে তাকে “এই পৃথিবীর মাটি থেকে মুছে ফেলা” হবে। এই মন্তব্যটি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে করা হয়, যেখানে ট্রাম্পকে ইরানের হুমকি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তার কাছে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, এবং কোনো আক্রমণ ঘটলে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এমন একটি কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন, যা এক বছর আগে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পরও প্রকাশিত হয়েছিল।

ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা আবলফাজল শেকারচি তেহরানের প্রতিক্রিয়া জানান, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান তার নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি কোনো আক্রমণ সহ্য করবে না। শেকারচি বলেন, ইরান কেবল প্রতিক্রিয়া নয়, বরং প্রতিশোধের মাধ্যমে শত্রুরা কোন নিরাপদ আশ্রয় পাবে না।

শেকারচি আরও বলেন যে ইরান আক্রমণকারী হাতকে কেটে ফেলবে এবং তার পরিণতি হিসেবে শত্রুরা পুরো অঞ্চল জুড়ে অশান্তি অনুভব করবে। এই বক্তব্য ইরানের দৃঢ় প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেয়, যা পূর্বে প্রকাশিত হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইরানে ২০২২ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া বিশাল প্রতিবাদগুলো এখনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে সর্ববৃহৎ বিরোধী আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত এই প্রতিবাদগুলো মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলার জন্য শুরু হয়।

প্রদর্শনকারীরা মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সাড়া দেন। এই সময়ে দেশের মুদ্রা নতুন সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়, যা জনমতকে আরও তীব্র করে তোলে।

মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণে কঠিনতা স্বীকার করেন। নরওয়ে ভিত্তিক ইরান মানবাধিকার এনজিওর মতে, বর্তমানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ৪,০০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

কিছু মিডিয়া সূত্রের অনুমান অনুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যা ২০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তবে এই সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। সংস্থাগুলি যোগাযোগের বাধা এবং তথ্য সংগ্রহের কঠিনতার কারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশে অক্ষম।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে এই ধরনের রেটোরিক্স ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে এই উত্তেজনা কূটনৈতিক চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়া, সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি বাড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে উভয় পক্ষেরই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অবশেষে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর রেটোরিক্সের মিশ্রণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে তা নির্ভর করবে উভয় দেশের নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments