দক্ষিণ ক্যারোলাইনা রাজ্যে হঠাৎ বাড়তে থাকা হামার রোগের কারণে নতুন ৮৮টি রোগী শনাক্ত হয়েছে। অক্টোবর মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৪৬টি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে এবং ১৫টি স্কুলে ৫০০ের বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সংস্পর্শে আসার পর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এই রোগের বিস্তার স্পার্টানবার্গ শহরে কেন্দ্রীভূত, যেখানে প্রায় ৩৯,০০০ বাসিন্দা রয়েছে। সম্প্রতি ক্লেমসন ও অ্যান্ডারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও সংক্রমিত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
হামার রোগ শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়; কাশি ও হাঁচির ফোঁটা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসে অপ্রতিরোধ্য সংক্রমণ ঘটতে পারে। টিকাদান না করা ব্যক্তির ৯০% পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে স্পার্টানবার্গ কাউন্টিতে স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিকাদান হার প্রায় ৯০% হলেও, রোগের বিস্তার থামাতে প্রায় ৯৫% জনসংখ্যা টিকাদান করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হামার রোগকে নির্মূল বলে ঘোষিত করা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদান বিরোধী মতামতের উত্থান এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক স্খলনের ফলে রোগের পুনরাবৃত্তি দেখা দিচ্ছে। দুই ডোজ টিকাদান ৯৭% কার্যকরী এবং গুরুতর জটিলতা কমাতে সহায়ক।
হামার রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই; রোগীর উপসর্গের ভিত্তিতে সমর্থনমূলক সেবা প্রদান করা হয়। জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে ফোলাভাব অন্তর্ভুক্ত, যা গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানির কারণ হতে পারে।
গত এক বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে ২,০০০ের বেশি নতুন কেস রেকর্ড হয়েছে, যা দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। টেক্সাসে ৭০০টির বেশি কেসের পর ৩টি মৃত্যু ঘটেছে, আর ইউটা ও অ্যারিজোনায়ও শত শত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের হামার নির্মূল অবস্থার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, টিকাদান হার বাড়িয়ে এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, রোগের বিস্তার রোধে টিকাদান গ্রহণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে টিকাদান নিশ্চিত করা হলে রোগের দ্রুত বিস্তার রোধ করা যাবে।
আপনার পরিবারে যদি এখনও টিকাদান না হয়ে থাকে, তবে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ টিকাদান শিডিউল অনুসরণ করা উচিত। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এই মুহূর্তে, স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে কাজ করে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা বজায় রাখছে এবং টিকাদান প্রচার বাড়াচ্ছে। রোগের ঝুঁকি কমাতে সবাইকে টিকাদান সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



