ঢাকা‑৬ নির্বাচনী এলাকার জামাত‑ই‑ইসলামি প্রার্থী আবদুল মান্নান ১৪ জানুয়ারি শেগুনবাগিচা রিটার্নিং অফিসে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি “ডারিপল্লা” চিহ্ন (Scales) বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্বাচনী অফিসের অবস্থান ও পরিচালনা পদ্ধতি ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন। এই উদ্বেগের মূল কারণ হল ভোটপত্র, অম্লিনি ইঙ্ক এবং অন্যান্য সংবেদনশীল সামগ্রী একত্রে সংরক্ষণের সম্ভাবনা।
মান্নান জানান, তিনি রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে ধারা‑৬ এলাকার থানা-স্তরের সব নির্বাচনী অফিস একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থিত, যার মালিকানা সন্দেহজনকভাবে বিরোধী পার্টির (বিএনপি) প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে যুক্ত। এই সংযোগের ফলে নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রার্থী আরও বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে গৃহীত পদক্ষেপের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এলাকায় এখনও গাঁটসাঁট ও অস্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত ঘটনা যথাযথভাবে সমাধান করা হয়নি, এবং প্রচারণার সময় কালো টাকা ব্যবহারও একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এসব বিষয় তিনি রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
অফিসের অবস্থান নিয়ে মান্নান বিশেষভাবে সতর্ক করেন যে, ভোটপত্র, অম্লিনি ইঙ্ক এবং অন্যান্য গোপনীয় সামগ্রী একই স্থানে সংরক্ষণ করা হলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন পরিবেশে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা নির্বাচনের মৌলিক নীতি—সাম্য ও স্বচ্ছতা—কে ক্ষুণ্ণ করবে।
রিটার্নিং অফিসার শেগুনবাগিচা থেকে জানানো হয় যে, মান্নানের লিখিত আবেদনটি ১৪ জানুয়ারি তারিখে গ্রহণ করা হয়েছে, তবে তা এখনো নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হয়নি। এছাড়া, অভিযোগের কপি রিটার্নিং অফিসে পাওয়া যায় না, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।
মান্নান দাবি করেন যে, তিনি লিখিত আবেদনটি একাধিকবার রিটার্নিং অফিসারকে উপস্থাপন করেছেন, তবে কোনো উত্তর বা পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার জন্য অতিরিক্ত আবেদন করার কথা উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগের পটভূমিতে ধারা‑৬ এলাকার নির্বাচনী অফিসগুলো ভাড়া বাড়িতে অবস্থিত, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সংযুক্ত। এমন পরিবেশে ভোটপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি অফিসের মালিকের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ থাকে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্বেগের ফলে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে। যদি অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে আনা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, এই ধরনের অভিযোগের সমাধান না হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা‑৬ মত গুরুত্বপূর্ণ ও জনসংখ্যা বেশি জেলায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
পরবর্তী ধাপে নির্বাচন কমিশনকে মান্নানের লিখিত আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা এবং রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগের কপি প্রদান করা জরুরি। এছাড়া, নির্বাচনী সামগ্রীর সংরক্ষণস্থল পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গাঁটসাঁট ও কালো টাকা সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আহ্বান জানানো প্রত্যাশিত।



