28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের বিমান বৈদ্যুতিক সমস্যায় এয়ার বেসে ফিরে, দাভোস সফর অব্যাহত

ট্রাম্পের বিমান বৈদ্যুতিক সমস্যায় এয়ার বেসে ফিরে, দাভোস সফর অব্যাহত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমান, স্বল্প সময়ের বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে, মঙ্গলবার রাত ১১ টার পরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে আসে। বিমানটি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরই সমস্যাটি সনাক্ত হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিত্তিতে অবতরণ করে।

প্রেস সেক্রেটারী ক্যারোলিন লেভিটের মতে, বিমানটি সতর্কতার জন্য বেসে ফিরে এসেছে এবং ০৪০০ GMT সময়ে অবতরণ সম্পন্ন করেছে। এই পদক্ষেপটি বিমানটির সিস্টেমে সম্ভাব্য ত্রুটি দূর করতে নেওয়া হয়েছে।

যাত্রার প্রথম কয়েক মিনিটে ক্যাবিনের আলো সাময়িকভাবে নিভে যায়, যা যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে অল্প সময়ের অস্বস্তি সৃষ্টি করে। তবে দ্রুতই আলো পুনরায় জ্বলে ওঠে এবং কোনো বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি রিপোর্ট করা হয়নি।

বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ট্রাম্প ও তার সঙ্গী দল অন্য একটি বিমান ব্যবহার করে দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এ অংশগ্রহণের পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে। ফোরামটি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা হবে।

বিমানটি, যার নীল-সাদা রঙের লিভারি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে পরিচিত এই জেটটি প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা ও যোগাযোগের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান এয়ার ফোর্স ওয়ান জেটের (বোয়িং ৭৪৭-২০০বি) অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই দুটি বিমান ১৯৯০ সালে জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশের শাসনামলে সেবা শুরু করে এবং পরবর্তীতে বহুবার আধুনিকায়নের দাবি করা হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্পের প্রশাসন বয়িংয়ের নতুন ৭৪৭-৮ মডেল সরবরাহে দেরি হওয়ায় বিকল্প বিক্রেতা অনুসন্ধানের কথা জানায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান জেটের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

মে মাসে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ কাতারের প্রস্তাবিত একটি বয়িং ৭৪৭ গ্রহণ করেন, যা ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করার জন্য দান করা হয়েছিল। এই জেটের মূল্য শত কোটি ডলার হিসেবে অনুমান করা হয় এবং এটি বিদেশি সরকার থেকে প্রাপ্ত হওয়ায় সংবিধানিক ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, বিদেশি দানকৃত বিমানকে প্রেসিডেন্টের গোপনীয় ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া, এমন দান দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সতর্কতা প্রয়োজন।

ট্রাম্পের দাভোস সফর আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার নীতি ও কূটনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে সামনে রাখবে। গ্রিনল্যান্ডের ওপর তার দাবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত এই বিষয়টি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করে।

বিমানটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের দল বিকল্প জেট ব্যবহার করে দাভোসে পৌঁছাবে, যেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মূল আলোচনায় অংশ নেবেন। এই সফরটি তার বিদেশ নীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলকে পুনরায় নির্ধারণের সুযোগ দেবে।

বৈদ্যুতিক সমস্যার দ্রুত সমাধান ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য এয়ার ফোর্স ওয়ান সংশ্লিষ্ট সকল প্রযুক্তিগত দল কাজ চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বিমান আপগ্রেড বা নতুন জেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নজর থাকবে, বিশেষ করে ট্রাম্পের বিদ্যমান জেটের প্রতি অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments