ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর জামে মসজিদের বারান্দা থেকে দুই‑চার দিনের নবজাতক কন্যা উদ্ধার করা হয়েছে; ঘটনাটি ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় স্থানীয়দের নজরে আসে এবং বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে (এসক্যানু) ভর্তি।
স্থানীয়রা মসজিদের বারান্দায় শিশুটিকে শোয়া অবস্থায় দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও আশেপাশের বাসিন্দাদের জানিয়ে দেন। দ্রুত তথ্য পৌঁছানোর পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাহিম মাহিন স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে নিরাপদে বের করে নেন।
বহুজনের সমন্বয়ে করা তৎপরতা শিশুটিকে রাত সাড়ে দশটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে সহায়তা করে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে তাত্ক্ষণিকভাবে নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মো. আকতার হোসাইন জানান, শিশুটি শারীরিকভাবে সুস্থ এবং কোনো তীব্র আঘাতের লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে নবজাতকের বয়স ও দুর্বলতা বিবেচনা করে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অপরদিকে, সদর মডেল থানার ওয়ান-ইন-চিফ অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম ঘটনাটির তদন্তে জোরদার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুটিকে মসজিদের বারান্দায় ফেলে যাওয়ার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য ফোরেন্সিক দলকে ডাকা হয়েছে।
তদন্তের প্রথম ধাপে স্থানীয় সাক্ষী ও মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের বিবৃতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মসজিদের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যাতে ঘটনার সময়ের কোনো দৃশ্য ধরা যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ বিভাগ শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় রাখে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
শিশু সুরক্ষা (প্রতিবন্ধকতা ও শোষণ) আইন, ২০১৯ অনুসারে শিশুর অবহেলা, অপহরণ বা অনধিকৃত পরিবেশে ফেলা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। মসজিদে নিয়মিত উপস্থিত থাকা বহু পরিবার শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে, শিশুর সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে এবং তার স্বাস্থ্যের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ ও অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে; সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা ও নাগরিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে যেন দায়ী ব্যক্তিরা দ্রুত ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।



