বিনোদন জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানা গেল, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতা আদিল হুসেইন লাকডবাঘা ২: দ্য মানকি বিজনেস ছবিতে সেন্সি চরিত্রে মিলিন্দ সোমানের জায়গা নেবেন। এই সিক্যুয়েলটি বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে এবং শুটিং কাজ জুন ২০২৫-এ সম্পন্ন হয়েছে। চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ও চরিত্রের পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
লাকডবাঘা সিরিজটি প্রাণীপ্রেমী ভিলেনজের প্রথম ভারতীয় ইউনিভার্স হিসেবে পরিচিত, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে প্রাণী রক্ষাকারী নায়কে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রথম অংশের সাফল্যের পর নির্মাতারা এই ধারাকে আরও বিস্তৃত করে নতুন গল্পের পথে অগ্রসর হচ্ছেন।
দ্বিতীয় অংশের শুটিং কাজ জুন ২০২৫-এ শেষ হওয়ায়, প্রযোজক দল দ্রুত পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে এবং মুক্তির তারিখ নির্ধারণের দিকে এগিয়ে আছে। ছবির স্কেল প্রথম অংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে।
কাস্টিং পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের গতি ও চরিত্রের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। মিলিন্দ সোমান পূর্বে সেন্সি চরিত্রে অভিনয় করলেও, এখন আদিল হুসেইন এই ভূমিকায় নতুন রঙ যোগ করবেন বলে জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ভক্তদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আদিল হুসেইন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে তার কাজের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে ‘লাইফ অফ পাই’ ছবিতে তার পারফরম্যান্স বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন তিনি ভারতীয় সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন দিক নির্দেশ করে।
সেন্সি চরিত্রটি সিক্যুয়েলে পূর্বের তুলনায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা পাবে, যেখানে নায়কের প্রশিক্ষণ ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে।
লাকডবাঘা ২-কে মার্শাল আর্টের ভিত্তিক অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে অন্ধকারময় টোন এবং তীব্র লড়াই দৃশ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রের শিরোনামই ইঙ্গিত দেয় যে প্রাণীপ্রেমী নায়কের সঙ্গে মশার মতো চতুর পরিকল্পনা যুক্ত থাকবে।
আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্টের বিশিষ্ট নামগুলোও ছবিতে অংশ নেবে; সানি প্যাং এবং ড্যান চুপংয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত মার্শাল আর্টিস্টরা তাদের দক্ষতা দিয়ে ছবির অ্যাকশনকে সমৃদ্ধ করবেন। এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ছবির গ্লোবাল আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় কাস্টের মধ্যে রয়েছে সারা জেন ডায়াস, বিক্রম কোচার এবং অ্যানশুমান ঝা, যাঁরা যথাক্রমে প্রধান নারী চরিত্র, সহায়ক ভূমিকা এবং মূল নায়কের ভূমিকায় উপস্থিত থাকবেন। অ্যানশুমান ঝা পুনরায় আরজুন বকশি চরিত্রে ফিরে আসবেন, যিনি সাধারণ মানুষ থেকে প্রাণীপ্রেমী ভিলেনজে রূপান্তরিত হন।
আদিল হুসেইন প্রকাশ্যে বলেছেন, লাকডবাঘা-১ দেখার পর তিনি প্রাণী অধিকার নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং এই ধারাকে পুনরায় জীবন্ত করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, সত্তরের দশকের হাথি মেরে সাথির পর থেকে প্রাণী রক্ষার থিমে বড় স্ক্রিনে এমন কোনো কাজ দেখা যায়নি।
তিনি আরও যোগ করেন, শুটিংয়ের সময় মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ ও অ্যাকশন দৃশ্যগুলো চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে অ্যানশুমান ঝা সর্বদা সহায়তা ও উদারতা দেখিয়েছেন। এই সমর্থন তার জন্য কাজকে সহজ করে তুলেছে এবং তিনি পুরো প্রক্রিয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
চলচ্চিত্রটি বছরের শেষের দিকে থিয়েটারে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং প্রি-রিলিজ ট্রেইলার ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। নির্মাতারা আশা করছেন, এই সিক্যুয়েলটি বক্স অফিসে ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রাণী অধিকার সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াবে।
ইন্ডি সিনেমার নতুন দিগন্তে লাকডবাঘা ইউনিভার্সের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মানের মার্শাল আর্ট ও ভিলেনজ থিমকে একত্রিত করে একটি নতুন মডেল তৈরি করেছে। দর্শকরা এখন এই মিশ্রণকে অভিজ্ঞতা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সর্বোপরি, আদিল হুসেইনের অংশগ্রহণ এবং কাস্টের পুনর্গঠন লাকডবাঘা ২-কে পূর্বের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা ভারতীয় সিনেমার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে নতুন আলো জ্বালাবে।



