শিনজো আবের হত্যার দায়িত্বে অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামি, ৪৫ বছর বয়সী, নারা শহরের আদালতে আজীবক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি ২০২২ সালের জুলাই মাসে শিনজো আবের নির্বাচনী ভাষণে তৈরি করা বন্দুক দিয়ে গুলি করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করেন, যা দেশজুড়ে শক সৃষ্টি করেছিল।
নিয়ায়ক শিনিচি তানাকা রায় প্রদান করেন, এবং রায়ের পর আদালতে প্রবেশের টিকিটের জন্য দীর্ঘ সারি গড়ে ওঠে, যা মামলায় জনসাধারণের তীব্র আগ্রহকে প্রকাশ করে।
ইয়ামাগামি হত্যার পাশাপাশি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেও অভিযুক্ত ছিলেন। তিনি হস্তনির্মিত বন্দুক ব্যবহার করে শিনজো আবের গুলি চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বদলে আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছেন।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও, জাপানের আইনি পদ্ধতি অনুযায়ী বিচার চলতে থাকে, ফলে তিনি অন্যান্য অভিযোগের জন্যও বিচারের মুখে আছেন।
আদালতের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন মানাবু কাওয়াশিমা, যিনি বলেন, “শিনজো আবের মৃত্যু আমার জন্য এক বিশাল শক, এবং আমি সত্য জানার জন্য এখানে এসেছি।” তিনি অতীতের শিনজো আবের প্রতি তার সম্মান ও শোক প্রকাশ করেন।
অন্য এক ব্যক্তি নারা আদালতের সামনে একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যেখানে তিনি রায়ের সময় ইয়ামাগামির কঠিন জীবন পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
প্রসিকিউশন দল ইয়ামাগামির জন্য আজীবন কারাদণ্ডের দাবি করে, এবং যুক্তি দেন যে এই অপরাধ দেশের যুদ্ধোত্তর ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
জাপানের আজীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা তাত্ত্বিকভাবে প্যারোলের সম্ভাবনা রাখে, তবে বাস্তবে অধিকাংশ বন্দি দীর্ঘ সময়ের পরই মৃত্যুবরণ করে।
প্রসিকিউশনের মতে, ইয়ামাগামির হত্যার প্রেরণা তার ব্যক্তিগত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে তিনি শিনজো আবের সমর্থনকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠী, ইউনিফিকেশন চার্চ,কে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখেছিলেন।
এই ঘটনা জাপানের তুলনামূলকভাবে কম গুলিবর্ষণ অভিজ্ঞতা থাকা সমাজে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।
পরবর্তী পর্যায়ে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আদালতকে আরও বিশদভাবে প্রমাণ ও আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করতে হবে।



