ধামরাই, বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকায় ১৫ জানুয়ারি রাতের সময় একটি বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠার পর স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ধর্ষণের দাবি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগকারী আব্দুর রাজ্জাক, শান্তি মনি দাসের ভাই কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাসের সহকর্মী হিসেবে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং জানিয়েছেন যে অজানা পাঁচজন ব্যক্তি তার স্ত্রীর গহনা, টাকা ও মোবাইল চুরি করে নিয়েছে। লুটের সময় মারধরের শব্দ শোনা গিয়ে প্রতিবেশী ও পরিচিতরা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে তারা শুধুমাত্র চুরি সম্পর্কে জানায়, ধর্ষণ বা গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলটি রামরাবন এলাকার সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া সড়ক থেকে বাম দিকে, পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ মিটার দূরে একটি একক কক্ষের টিনের ঘর। বাড়িতে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া এক মেয়ে সহ শান্তি মনি দাস একা বসবাস করেন; ঘরের পাশে একটি রান্নাঘর, পেছনে টিউবওয়েল ও বাথরুম রয়েছে। শান্তি মনি দাসের মতে, তার বাড়ির পশ্চিমে পরেশ রাজবংশীর বাড়ি, উত্তর-পশ্চিমে তাপস সাহা ও চন্দ্র মোহনের বাড়ি, পূর্বে কৃষিজমি, উত্তরে পতিত জমি ও গাছপালা, এবং দক্ষিণে নেপাল চন্দ্র মনি দাসের বাড়ি অবস্থিত।
মধ্যরাতে মারধরের শব্দ শোনা গিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা শিল্পী মনি দাস ও তার স্বামী নেপা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তবে তারা কোনো শারীরিক আক্রমণ বা ধর্ষণের সাক্ষী হননি। প্রতিবেশীরা জানায়, শব্দের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য এক নারীও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে তারাও কেবল লুটের কথা জানায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তার মন্তব্যের ভিত্তিতে সামাজিক মাধ্যমে ধর্ষণের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও, তদন্তে এসব দাবির কোনো সমর্থনকারী প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো শারীরিক আঘাতের চিহ্ন, রক্তের নমুনা বা ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, অভিযোগকারী আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে লুটের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ নেওয়া হলেও, তিনি ধর্ষণের কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি। তদন্তের সময় বাড়ির আশেপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা সাক্ষী পাওয়া যায়নি, ফলে অপরাধীর সনাক্তকরণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার পর ১০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ভুক্তভোগী কোনো আনুষ্ঠানিক FIR দায়ের করেননি। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব না হলে, মামলাটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি নজরে রাখার কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, রাতে অন্ধকারে একা বসবাসকারী গৃহবধূদের সুরক্ষার জন্য আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশের মতে, লুটপাটের অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে। অপরাধীর সনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে এমন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে, তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানাতে বলা হচ্ছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় কমিউনিটি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত তথ্যের প্রভাবও স্পষ্ট হয়েছে। দ্রুত শেয়ার করা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে ছড়িয়ে দিলে, তা ভুক্তভোগীর মানসিক চাপ বাড়াতে পারে এবং সমাজে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত না হলে তা প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তার মন্তব্যের ভিত্তিতে, ঘটনাস্থলে কোনো ধর্ষণ বা বেঁধে মারধরের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই তথ্যের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলকে সম্মান করে, ভবিষ্যতে তথ্যের সঠিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের অপরাধের শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানসিক ও আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সামাজিক সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এই ঘটনায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে, ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় লুটপাটের অভিযোগই প্রধান অপরাধ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে, এবং ধর্ষণের কোনো প্রমাণ না থাকায় তা আইনি দৃষ্টিতে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।



