বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা ইসফ নাজরুল মঙ্গলবার আবারও স্পষ্ট করে জানান যে, আইসিসি টুইন্টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যদি ভারতেই অনুষ্ঠিত হয় তবে দেশের দল তা খেলতে রাজি নয়। তিনি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতীয় মঞ্চে অংশগ্রহণের কোনো পরিবর্তন স্বীকার করবেন না বলে জোর দেন।
ইসফের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উল্লিখিত হওয়ার গুজবও তীব্রভাবে খারিজ করা হয়। বাংলাদেশ যদি টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়, তবে স্কটল্যান্ডকে বদলি করা হতে পারে, তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত সপ্তাহান্তে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করে এই impasse সমাধানের চেষ্টা করে। তবে দলটি ভারতীয় মঞ্চে খেলা না করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে এবং ম্যাচগুলোকে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করে।
বিসিবি যে অনুরোধটি তুলে ধরেছে, তা মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি) কর্তৃক কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে তাদের স্কোয়াড থেকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেওয়ার পরের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া। এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের দিক থেকে উদ্বেগের মুখে পড়তে হয়।
আইসিসি জানিয়েছে যে, বিষয়টি সমাধানের শেষ তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, কারণ সময়ের চাপ বাড়ছে। যদি বাংলাদেশ দলকে স্কটল্যান্ড দিয়ে বদলাতে হয়, তবে স্কটল্যান্ডকে প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিতে হবে।
ইসফ নাজরুল বলেন, “আমি জানি না স্কটল্যান্ড আমাদের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আইসিসি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপে আমাদের ওপর অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করে, তবে আমরা সেসব শর্ত মেনে নিতে পারব না।” নিরাপত্তা ও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি পুনরায় জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “পূর্বে পাকিস্তানও একই রকম দাবি করে এবং আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে।”
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ দল ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে উপস্থাপন করেছে এবং অযৌক্তিক চাপে তাদের অংশগ্রহণ বাধ্য করা যাবে না। এই অবস্থান থেকে দলটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত শর্ত ছাড়া কোনো সমঝোতা স্বীকার করা হবে না।
আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে। যদি শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে স্কটল্যান্ডকে বদলি করা হতে পারে, যা টুর্নামেন্টের সূচি ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নীতিমালা একসঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য করা হবে, তা এখনই মূল প্রশ্ন।
দলটি আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খুঁজতে আগ্রহী, তবে অযৌক্তিক শর্তে সমঝোতা করতে প্রস্তুত নয়। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রাধিকার হবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।



