28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধর‌্যাবের অভিযানতে এক কর্মকর্তা নিহত, তিনজন আহত; ৪০০‑৫০০ জনের আক্রমণ

র‌্যাবের অভিযানতে এক কর্মকর্তা নিহত, তিনজন আহত; ৪০০‑৫০০ জনের আক্রমণ

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাবের একটি অভিযান চলাকালীন এক কর্মকর্তা নিহত এবং তিনজন সহকর্মী আহত হন। ঘটনাটি ১৯ জানুয়ারি ঘটেছে, যখন র‌্যাবের দল সশস্ত্র সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করে।

জঙ্গল সলিমপুরকে প্রায়ই দেশের ভেতরে আরেকটি অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাহাড়ি ও কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এখানে সীমিত থাকে এবং স্থানীয়ভাবে অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ে। র‌্যাবের মহাপরিচালক এ.সি.এম. শহিদুর রহমানও এই এলাকাকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করেছেন।

র‌্যাবের দল যখন লক্ষ্যস্থলে পৌঁছায়, তখনই তারা হঠাৎ করে এক বিশাল সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি র‌্যাবের দুইটি মাইক্রোবাসের দিকে লাঠি ও পাথর নিক্ষেপ করে, গ্লাস ভাঙে এবং সরাসরি গুলি চালায়।

হামলাকারীরা র‌্যাবের সদস্যদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং কিছু সময়ের জন্য তাদের গুলিবিদ্ধ করে। একই সময়ে, গোষ্ঠীর সদস্যরা মসজিদের মাইক্রোফোন ব্যবহার করে গেট বন্ধের ঘোষণা দেয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

র‌্যাবের সূত্র অনুযায়ী, এই আক্রমণে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি দল অংশগ্রহণ করেছে। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা, মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া, র‌্যাব‑৭ এর উপসহকারী পরিচালক, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য তিনজন র‌্যাব সদস্য গুলি ও আঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলার পর র‌্যাব ও পুলিশ উভয়ই জোরালো অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা গ্রেফতার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই ঘটনার আইনি দিকেও দ্রুত এগোচ্ছে। র‌্যাব মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। র‌্যাব পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি মনিটর করবে।

অভিযানের সময় র‌্যাবের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ইউনিট মোতায়েন করেছে।

জঙ্গল সলিমপুরের ইতিহাসে পূর্বে এমনই কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কঠিন ভূগোলের কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে র‌্যাবের বর্তমান অভিযানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অধিকন্তু, র‌্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের আক্রমণ রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। তারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রতিবেদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

সাময়িকভাবে, জঙ্গল সলিমপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির রয়ে গেছে। র‌্যাব ও পুলিশ উভয়ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই ঘটনার পর, দেশের বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা ঘটনাটির বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং র‌্যাবের জোরালো পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তবে, কিছু বিশ্লেষক এখনও প্রশ্ন তুলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের আক্রমণ কীভাবে রোধ করা সম্ভব।

র‌্যাবের মহাপরিচালক এ.সি.এম. শহিদুর রহমানের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ় উপস্থিতি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত করার মূল চাবিকাঠি।

এই ঘটনায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments