23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাচট্টগ্রাম রয়্যালস ফাইনালে, বি.সি.বি.র 'কমিটি টিম' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

চট্টগ্রাম রয়্যালস ফাইনালে, বি.সি.বি.র ‘কমিটি টিম’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

বিএফএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) এর শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস ফাইনালে স্থান পেয়েছে। দলটি মূলত টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ে, ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দলটির মালিকানা গ্রহণ করে এবং স্বল্প সময়ে কোচ ও ম্যানেজার নিয়োগ করে।

টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই ক্যাপ্টেন শেখ মেহেদি হাসানকে ফাইনালের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি হাস্যরসের সঙ্গে উত্তর দেন যে, ফাইনালে পৌঁছানো মানে তারা এখন ‘কমিটি টিম’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। তার এই মন্তব্য পুরো সংবাদ সম্মেলন কক্ষকে হাসিতে ভরিয়ে দেয়।

বিসিবি কর্তৃক দায়িত্ব গ্রহণের পর দলটি দ্রুত সংগঠিত হয়। টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার, কোচ মিজানুর রহমান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে দ্রুতই দায়িত্বে রাখা হয়। তাদের ত্বরিত পদক্ষেপে দলটি পুনর্গঠন হয় এবং প্রথম ম্যাচে দুইজন অজ্ঞাত বিদেশি খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে নামা সত্ত্বেও তারা ধারাবাহিক জয় অর্জন করে।

প্রথম ম্যাচে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র দুজন ছিল, তবে তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ছিল। দলের গঠন ভাঙা-ভাঙা হলেও, দ্রুত সমন্বয় এবং নতুন কোচিং স্টাফের সহায়তায় তারা ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠে আসে।

মেহেদি হাসান দলের সাফল্যে বিস্মিত নয়, বরং তিনি এটিকে ‘অবিশ্বাস্য নয়’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যেভাবে সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, তেমনি ক্রিকেটে দলীয় সম্পদকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা দরকার। বড় নাম বা আন্তর্জাতিক তারকা না থাকলেও, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এবং দলীয় মনোভাবই ফলাফল নির্ধারণ করে।

ক্যাপ্টেনের মতে, আর্থিক সমস্যার পরেও বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার ফলে খেলোয়াড়দের ওপর কোনো চাপ না থাকায় তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলতে পারছে। এই স্বাচ্ছন্দ্যই তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘দল হিসেবে আমরা যখন একসাথে কাজ করি, তখনই ফলাফল আসে’।

দলটির দ্রুত উন্নয়নে কোচ মিজানুর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মেহেদি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোচিং স্টাফের আগমনের পর খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মাঠে তাদের পারফরম্যান্সে তা স্পষ্ট দেখা যায়। কোচের কৌশলগত নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি দলকে সঠিক পথে নিয়ে গেছে।

টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে বিসিবি দলটির মালিকানা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আর্থিক সংকট ছিল, যা দলকে অস্থির অবস্থায় ফেলেছিল। তবে বিসিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দলকে পুনর্গঠন করে এবং টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নেয়।

দলটির প্রথম ম্যাচে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা সীমিত থাকলেও, তারা দ্রুতই টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠে আসে। এই সাফল্যকে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সমর্থকরা ‘বিপিএল জুড়ে হাসির কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে, তবে একই সঙ্গে দলটির কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে।

ক্যাপ্টেন মেহেদি হাসান দলের সাফল্যকে ‘দলীয় খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বড় নাম বা আন্তর্জাতিক তারকা না থাকলেও, খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং আত্মবিশ্বাসই মূল চালিকাশক্তি। তার মতে, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে আপনি যখন আপনার সব উপকরণ ব্যবহার করেন, তেমনি ক্রিকেটেও দলকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা দরকার’।

দলীয় ব্যবস্থাপনা ও কোচিং স্টাফের সমন্বয়কে মেহেদি প্রশংসা করেন। তিনি টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার, কোচ মিজানুর রহমান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দলকে সঠিক পথে চালিত করেছেন।

চূড়ান্ত ম্যাচের প্রস্তুতি চলতে থাকায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। দলটি এখন ফাইনাল ম্যাচের জন্য কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিচ্ছে এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments