28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল প্রতিবাদ

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল প্রতিবাদ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রওনা হয়। এই প্রতিবাদে ICE (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের গুলিতে নিহত রেনি গুডের মৃত্যুকে প্রধান প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবাদটি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু হয়ে নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, টেক্সাস এবং শেষ পর্যন্ত সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা শহরভেদে ভিন্ন হলেও মোট মিলিয়ে কয়েক হাজারেরও বেশি মানুষ রোডে নেমে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানকে তীব্র নিন্দা জানায়।

মিনিয়াপলিসে ৭ জানুয়ারি ঘটিত ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুডকে ICE এজেন্ট গুলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয় বলে জানা যায়, যা দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

মিনিয়াপলিসের প্রতিবাদকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় গর্জন করে, এবং রেনি গুডের মৃত্যুর নিন্দা জানাতে রেলপথে ব্যানার ও পোস্টার ঝুলিয়ে রাখে। এই স্লোগানগুলো ICE-র কঠোর নীতি ও তার ফলে সৃষ্ট মানবিক কষ্টের বিরোধিতা প্রকাশ করে।

ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবি নিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়। তারা ICE-র কার্যক্রমকে ‘অমানবিক’ বলে চিহ্নিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে এর বিরোধিতা তুলে ধরে।

এই বৃহৎ প্রতিবাদে ইনডিভিবল, ৫০৫০১ এবং অন্যান্য বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল সংগঠনগুলো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তারা বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোতে অবস্থিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়াবহ পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে।

ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ঐ ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। ক্যাম্পের ভিড়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং কঠোর শর্তাবলীকে নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী ক্রমাগত সতর্কতা প্রকাশ করছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিক ICE ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার মাধ্যমে অভিবাসীকে জোরপূর্বক প্রত্যাহার করার পদ্ধতিকে বিরোধিতা করে। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এই ধরনের নীতি মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে।

প্রতিবাদটি সকালবেলা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিম উপকূলের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় মঞ্চ স্থাপন করে, স্লোগান গাইতে থাকে এবং ক্যাম্পেইন পোস্টার বিতরণ করে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো এই প্রতিবাদে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য বা নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। তবে সরকারী সূত্র থেকে জানা যায়, ICE-র কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি বা পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সূচনা হয়েছে। পরবর্তী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল বিবৃতি প্রত্যাশিত, যা এই বৃহৎ প্রতিবাদের রাজনৈতিক প্রভাবকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments