বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ প্রদান করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল শিক্ষকদের সীমিত বেতন দিয়ে পরিবার চালানো ও অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। ঋণটি সরাসরি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন করা যাবে এবং শর্ত পূরণকারী যেকোনো শিক্ষকই এতে অংশ নিতে পারবেন।
দেশে প্রায় চার লক্ষের কাছাকাছি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মরত। অধিকাংশ শিক্ষক নিজের বাসা বা নিকটস্থ এলাকায় কাজ করেন এবং গাভি, গরু, হাঁস-মুরগি, মৎস্য চাষ, নার্সারি বা ক্ষুদ্র ব্যবসা সহ বিভিন্ন আয়জনক কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন। এসব কাজের জন্য প্রাথমিক মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন প্রয়োজন, যা এখন কৃষি ব্যাংকের ঋণ কর্মসূচি পূরণ করবে।
কৃষি ব্যাংকের এই বিশেষ ঋণ পরিকল্পনা শিক্ষকদের গৃহস্থালি ও সন্তানদের উচ্চশিক্ষা, পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী ব্যবসা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করে। ঋণ গ্রহণের জন্য কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সহজ করে তুলেছে।
প্রথম শর্ত হল আবেদনকারী অবশ্যই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। দ্বিতীয় শর্তে উল্লেখ আছে যে শিক্ষকের বেতন ও ভাতা অবশ্যই সেই শাখার মাধ্যমে জমা হতে হবে, যেখানে ঋণের আবেদন করা হবে; অন্য শাখা থেকে আবেদন করা যাবে না। তৃতীয় শর্তে কর্মকাল ন্যূনতম তিন বছর, যার মধ্যে প্রোবেশনাল রিটেনশন লেভেল (PRL) অন্তর্ভুক্ত, থাকতে হবে। শেষ শর্তে কোনো বিচারাধীন মামলা, নিষ্পত্তি না হওয়া বিভাগীয় মামলা, ব্যাখ্যা তলব বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকলে ঋণ পাওয়া যাবে না।
ঋণের পরিমাণ এক লাখ থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ঋণ গ্রহণের পর পরিশোধের সময়সীমা এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়, এবং কিস্তির সংখ্যা সেই সময়সীমার উপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, এক লাখ টাকা ঋণ এক বছরের মধ্যে ১২ কিস্তিতে পরিশোধ করলে মাসে প্রায় আট হাজার সাতশত পঁয়তাল্লিশ টাকা, দুই বছরের (২৪ কিস্তি) ক্ষেত্রে চার হাজার পাঁচশত আটষট্টি টাকা, তিন বছরের (৩৬ কিস্তি) ক্ষেত্রে তিন হাজার একশত অশি টাকা, চার বছরের (৪৮ কিস্তি) ক্ষেত্রে দুই হাজার চারশত উননব্বই টাকা এবং পাঁচ বছরের (৬০ কিস্তি) ক্ষেত্রে দুই হাজার সাতশত ছিয়াশি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
দশ লাখ টাকা ঋণ নিলে একই সময়সীমায় মাসিক কিস্তি যথাক্রমে এক বছরের (১২ কিস্তি) জন্য আট সাতশত পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা, দুই বছরের (২৪ কিস্তি) জন্য পঁয়তাল্লিশ হাজার ছয়শত পঁয়ানব্বই টাকা, তিন বছরের (৩৬ কিস্তি) জন্য একত্রিশ হাজার আটশত টাকা, চার বছরের (৪৮ কিস্তি) জন্য দুইচল্লিশ হাজার আটশত পঁচানব্বই টাকা এবং পাঁচ বছরের (৬০ কিস্তি) জন্য বিশ হাজার সাতশত আটশত টাকা হবে। এই হারগুলো ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এবং ঋণগ্রহীতার বয়স, ক্রেডিট স্কোর ইত্যাদির উপর সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
একটি বাস্তব উদাহরণে, সিলেটের এক শিক্ষক তার বাড়ির পেছনে মুরগি পালনের জন্য দশ লাখ টাকা ঋণ নেন। তিনি প্রথম দুই বছর কিস্তি দিয়ে মূলধন পরিশোধ করেন, এরপর ব্যবসা থেকে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকি কিস্তি দ্রুত সম্পন্ন করেন। পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত হয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
শিক্ষকগণ যদি ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করেন, তবে প্রথমে নিজের বেতন জমা শাখা নিশ্চিত করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। এছাড়া, কর্মকাল ও কোনো চলমান আইনি প্রক্রিয়া না থাকলে শর্ত পূরণ সহজ হয়। ঋণ গ্রহণের আগে মাসিক কিস্তি হিসাব করে নিজের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা এবং ব্যবসা পরিকল্পনা স্পষ্ট করা সফল পরিশোধের চাবিকাঠি।
আপনার কি কোনো অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির পরিকল্পনা আছে? যদি হ্যাঁ, তবে কৃষি ব্যাংকের এই ঋণ সুবিধা আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে—আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানার জন্য নিকটস্থ শাখা বা ব্যাংকের হটলাইন ব্যবহার করুন।



