22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকারাচি গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানি ও অচিহ্নিত নিখোঁজ

কারাচি গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানি ও অচিহ্নিত নিখোঁজ

কারাচির বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুল প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সে রাত ১০টায় অগ্নিকাণ্ড ঘটার ফলে একাধিক প্রাণহানি ও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শিকাগো সময়ে ২২:০০ টার কাছাকাছি অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শপিং সেন্টারের ভিতরে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

গুল প্লাজা প্রায় ১,২০০টি দোকান সমন্বিত একটি হোলসেল মার্কেট, যেখানে তলা, মেজানিন এবং তলদেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। শপিং সেন্টারটি বিশেষ করে শাদী, বিয়ের সময় এবং উৎসবের আগের দিনগুলোতে ভিড়ের স্রোত দেখায়।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে সাক্ষীদের মতে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বন্ধ দরজার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। শপিং সেন্টারের একাধিক প্রস্থান পথ কাজ না করার ফলে মানুষ ঘরে আটকে গিয়ে প্যানিকের শিকারে পরিণত হয়।

বিক্রেতা মুহাম্মদ আমিনের ভাই নাভিদ মেমন গুল প্লাজার ভিতরে ছিলেন এবং এখনও তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আমিন তার মায়ের ও নাতি-নাতনিদের কীভাবে জানাবেন তা নিয়ে গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার নাতি-নাতনিরা বাবার জন্য কাঁদছে, আমি কীভাবে তাদের জানাব যে তার আর কোনো ফিরে আসা নেই?”

একজন বিছানার চাদরের দোকান মালিক রেহান ফয়সাল জানান, তার দোকানটি এক প্রস্থান পথে অবস্থিত থাকায় তিনি দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নি শুরুর পর পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে সবকিছুই অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

১৯ বছর বয়সী শোয়াব, যিনি সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রি করেন, তিনি জানান, তিনি রাতে ২২:০০ টার দিকে নিচের তলায় অগ্নি সম্পর্কে জানেন। শপিং সেন্টারের মালিক তাকে দোকান বন্ধ করে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, তবে তৎক্ষণাৎ ধোঁয়া ঘন হয়ে সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় ফায়ার ব্রিগেড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন নিভাতে কাজ করে। তবে শপিং সেন্টারের গঠনগত ত্রুটি, বিশেষ করে দরজা ও সিঁড়ির অপ্রতুলতা, উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তুলেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও বহুজন আহত হয়েছে। নিখোঁজদের সংখ্যা এখনও বাড়ছে, যেখানে পরিবারগুলো তাদের অবস্থান জানার জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষায় রয়েছে।

কারাচি শহরের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। টাস্ক ফোর্সের প্রধান কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজার নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের মধ্যে শপিং সেন্টারের মালিক, ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর দায়িত্বে অপরাধমূলক দায়িত্ব আরোপ করা সম্ভব, যার মধ্যে অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম না থাকা, জরুরি প্রস্থান পথ বন্ধ রাখা এবং অগ্নি প্রতিরোধের নীতি লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত।

অনুসন্ধান কর্মী বর্তমানে গুল প্লাজার ভেতরে আটকে থাকা সম্ভাব্য বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, আহত ও শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য সরকারী সহায়তা ও মানসিক পরামর্শের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শপিং সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments