28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধক্যাম্বোডিয়ার ব্যবসায়ী কুয়ং লি জড়িত স্ক্যাম মামলায় গ্রেফতার

ক্যাম্বোডিয়ার ব্যবসায়ী কুয়ং লি জড়িত স্ক্যাম মামলায় গ্রেফতার

ক্যাম্বোডিয়ার রাজধানী ফনোম পেনের আদালত ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ৫০ বছর বয়সী কুয়ং লি নামের একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে, যাকে অনলাইন স্ক্যাম, মানব পাচার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে অপরাধী হিসেবে ধরা হয়েছে। কুয়ং লি ২০১৯ সাল থেকে ক্যাম্বোডিয়া ও অন্যান্য দেশে অবৈধ নিয়োগ, জটিল প্রতারণা, সংগঠিত অপরাধ এবং অর্থ লন্ডারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

প্রতিবাদী কুয়ং লি-কে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ, শোষণমূলক কাজ, গুরত্বপূর্ণ প্রতারণা, সংগঠিত অপরাধ এবং অর্থ পাচারসহ একাধিক অপরাধের জন্য আইনি দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো ২০১৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি বিভিন্ন দেশে ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে জালিয়াতি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ফনোম পেনের আদালত কুয়ং লি-কে পরবর্তী শুনানির পর্যন্ত জেলখানায় আটক রাখার আদেশ দেয়। আদালতের রায়ে তাকে রিম্যান্ডেড হিসেবে রাখা হয়, যাতে তদন্তের সময় তার মুক্তি না হয় এবং মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত হয়।

কুয়ং লি প্রথমবার জনসাধারণের নজরে আসে ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক তদন্তে, যেখানে তিনি সিহানুকভিলের হুয়াং লে নামের একটি বড় স্ক্যাম কম্পাউন্ডের মালিক হিসেবে চিহ্নিত হন। এই তদন্তটি বিশ্বব্যাপী অনলাইন প্রতারণা ও মানব পাচার সংক্রান্ত সমস্যার ওপর আলোকপাত করে।

হুয়াং লে কম্পাউন্ডটি সিহানুকভিলের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত এবং এটি একটি বেষ্টিত এলাকা, যেখানে বহু বিদেশি শ্রমিককে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কম্পাউন্ডের ভিতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর, এবং কর্মীরা প্রায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কাজ করতেন, যা মূলত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে জালিয়াতি চালানোর জন্য ছিল।

একজন চীনা নাগরিক, যাকে ‘ডিডি’ নামে পরিচিত, তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। ডিডি জানান, তিনি ভাল বেতনের কাজের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ক্যাম্বোডিয়ায় আসেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি জোরপূর্বক কম্পাউন্ডে আটকে রাখেন। তাকে রাতের শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং কোনো সময়ে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়।

ডিডি গোপনভাবে ভিডিও রেকর্ডিং করে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও গ্লোবাল অ্যান্টি-স্ক্যাম অর্গানাইজেশন (GASO) এর কাছে পাঠান। এই রেকর্ডিংগুলোতে কম্পাউন্ডের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, কর্মীদের কঠোর শর্ত এবং ভুক্তভোগীদের উপর চালিত প্রতারণার পদ্ধতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ডিডি তার ভিডিও ডায়েরিতে উল্লেখ করেন যে, তাকে বলা হয়েছিল “তোমার বেঁচে থাকা পর্যন্ত স্ক্যাম চালিয়ে যাও” এবং তিনি অন্য এক ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করতে দেখেছেন, যিনি কাজের ভুলের জন্য অফিস থেকে বের করে টেনে নেওয়া হয়েছিলেন। এই ধরনের হিংসা কম্পাউন্ডের নিয়মিত অংশ ছিল।

অবশেষে ডিডি তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন, যদিও তিনি গুরুতর আঘাত পান। পালানোর পর তিনি ফনোম পেনে একটি নিরাপদ বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে চীনে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি চীনের দক্ষিণে একটি কারখানায় কাজ করছেন এবং পূর্বের স্ক্যাম কম্পাউন্ডের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই।

ডিডি ছাড়াও আরেকজন চীনা নাগরিক, মি লি জুন, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মানব পাচার ও জালিয়াতির শিকার হওয়ার বিবরণ দেন। উভয় সাক্ষ্যই আন্তর্জাতিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

কুয়ং লি-র গ্রেফতার ক্যাম্বোডিয়ার সরকারী সংস্থার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যা অনলাইন জালিয়াতি ও মানব পাচার মোকাবিলায় গৃহীত হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্ক্যাম নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments