ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা এবং প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় দল (USWNT) কোচ জিল এলিস ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কাতারকে ২০২৮ সালের নারী ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানানো আলোচনার ওপর মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, যদিও তিনি নিজে কোনো সরাসরি আলোচনার খবর পাননি, তবু মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি টুর্নামেন্টের আয়োজনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি উন্মুক্ত মনোভাব পোষণ করেন।
এলিসের মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে চলমান LGBTQ+ বিরোধী আইন নিয়ে তার উদ্বেগ। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০টিরও বেশি বিলের মধ্যে সমকামী অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার ধারা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ক্রীড়া সমাজের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং তাই কোনো দেশকে হোস্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার সময় এই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
কাতারকে ২০২৮ সালের নারী ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হলে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত। এই সময়কালে বিশ্বের শীর্ষ স্তরের নারী ক্লাব দলগুলো একত্রিত হয়ে প্রতিযোগিতা করবে। এলিসের মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টের মাধ্যমে নারী ফুটবলের দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এলিসের বক্তব্যে তিনি নিজেকে “ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে” কথা বলছেন বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি খুবই সতর্ক যে, নিজের গ্লাসের বাড়িতে না গিয়ে অন্যের গ্লাসে পাথর না ছুঁড়ি”। এই রূপকটি ব্যবহার করে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের হোস্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ন্যায়সঙ্গত ও সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের শক্তি সম্পর্কে এলিসের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, “খেলাধুলা মানুষের মনকে বদলাতে, শিক্ষিত করতে এবং আলোকিত করতে পারে”। নারী ফুটবলের প্রসার এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাড়াতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আরও যোগ করেন, “যত বেশি মানুষ এই অসাধারণ গেমটি দেখতে পাবে এবং নারী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উপভোগ করবে, ততই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে”।
ফিফা বর্তমানে কাতারের সঙ্গে এই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য আয়োজন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে এলিসের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, হোস্ট দেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার, বিশেষ করে LGBTQ+ অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ভবিষ্যতে ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজক দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
এলিসের মন্তব্যের পর ফিফা থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন—যেমন সমকামী বিরোধী আইন, ক্রীড়ার সামাজিক প্রভাব এবং হোস্ট নির্বাচনের ন্যায়সঙ্গত মানদণ্ড—এগুলো ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
কাতারকে হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হলে, দেশটির LGBTQ+ অধিকার সংক্রান্ত নীতি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। তবে এলিসের মতে, ক্রীড়া একটি সেতু হিসেবে কাজ করে এমন বিষয়গুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলে দেয়। তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, “আমি বিশ্বাস করি, নারী ফুটবলের এই বড় ইভেন্টের মাধ্যমে আমরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি”।
এই আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলোতে ফিফা সকল প্রস্তাবিত হোস্ট দেশের নীতি, অবকাঠামো এবং মানবাধিকার রেকর্ডের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করবে বলে জানা যায়। টুর্নামেন্টের নির্ধারিত তারিখ ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে, তাই হোস্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া শীঘ্রই সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, জিল এলিসের মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের LGBTQ+ বিরোধী আইন নিয়ে উদ্বেগ, ক্রীড়ার সামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং কাতারকে ২০২৮ নারী ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাব্য হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। এই বিষয়গুলো ফিফার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও হোস্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



