মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ মনাকোর বিরুদ্ধে ৬-১ বড় জয় অর্জন করে। কিলিয়ান এমবাপ্পে দুই গোলের মাধ্যমে দলকে নেতৃত্ব দেন, আর ভিনিসিয়াস জুনিয়রও এক দারুণ গোল করেন। এই জয়টি নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার নেতৃত্বে দ্বিতীয় জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
গেমের মাত্র পাঁচ মিনিটে এমবাপ্পে প্রথম গোল করেন। ফেডে ভ্যালভার্দে মস্তান্তুনোর কাট-ব্যাককে বাধা দিয়ে বলকে এলাকা থেকে দূরে রাখে, আর এমবাপ্পে তা নিখুঁতভাবে গন্তব্যে পাঠিয়ে স্কোর বাড়িয়ে দেন। তার উদযাপনের পর তিনি দর্শকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, যেহেতু তিনি পূর্বে মনাকোর হয়ে খেলেছিলেন।
দ্বিতীয় গোলটি দ্রুত প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে আসে। এডুয়ার্দো কামাভিঙ্গা বলকে আরদা গুলের দিকে চতুরভাবে ফ্লিক করেন, গুল ভিনিসিয়াসকে পাস দেন এবং ভিনিসিয়াসের ক্রস থেকে এমবাপ্পে আবারও বলকে জালে পাঠিয়ে দ্বিগুণ স্কোর সম্পন্ন করেন। এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণাত্মক শক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভিনিসিয়াস জুনিয়রও নিজের নামের তালিকায় একটি গোল যোগ করেন। তিনি একক চালনা করে প্রতিপক্ষের রক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে বলকে নেটের মধ্যে ঠেলে দেন, যা ম্যাচের তৃতীয় গোল হিসেবে রেকর্ড হয়। তার এই পারফরম্যান্স দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
জুড বেলিংহাম এবং ফ্রাঙ্কো মস্তান্তুনোও স্কোরের তালিকায় যোগ দেন। বেলিংহাম মাঝখানে থেকে একটি শট দিয়ে বলকে জালে পাঠিয়ে রিয়ালের পঞ্চম গোল সম্পন্ন করেন, আর মস্তান্তুনোও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলের সুবিধা বাড়িয়ে দেন।
থিলো কেহরার নিজের নেটের দিকে বলকে গড়িয়ে দিয়ে একটি আত্ম-গোল করেন। ভিনিসিয়াসের ক্রসকে ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ফলে বল তার নিজের গলিতে গিয়ে রিয়ালের ষষ্ঠ গোল হয়ে ওঠে। এই আত্ম-গোলের পরেও রিয়ালের আক্রমণাত্মক প্রবাহে কোনো বাধা না আসে।
গোলকিপার থিবাউট কুর্তোইসও ম্যাচের মাঝখানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের রক্ষণকে মজবুত করেন। তার সেভগুলো মনাকোর আক্রমণকে থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মনাকোও কিছুটা প্রতিরোধ দেখায়। অ্যানসু ফাতি, যিনি বার্সেলোনার থেকে ভাড়া নিয়ে মনাকোতে খেলছেন, একবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছান, তবে শেষ মুহূর্তে বলকে নেটের বাইরে রাখতে পারেন। জর্ডান টেজে দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শট মারেন, যা ক্রসবারে আঘাত করে, তবে গোল হয় না।
আলভারো আরবেলোয়া, যিনি গত সপ্তাহে জাবি আলোনসোর পরিবর্তে কোচিং দায়িত্ব নেন, তার তত্ত্বাবধানে দলটি আক্রমণাত্মকভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আরবেলোর দ্বিতীয় জয় রিয়ালের জন্য আত্মবিশ্বাসের একটি বড় বাড়তি।
এই জয়ের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদ গ্রুপ পর্যায়ে শীর্ষ আটের মধ্যে স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। দলটি এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে এই ধারাকে বজায় রাখতে চায়।
সারসংক্ষেপে, রিয়াল মাদ্রিদের এই পারফরম্যান্স এই সিজনের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমবাপ্পের দু’টি গোল, ভিনিসিয়াসের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং পুরো দলের সমন্বিত আক্রমণাত্মক খেলা এই জয়কে সহজ করে তুলেছে।



