রাজশাহী জেলার ডিসি (জেলা প্রশাসক) আফিয়া আখতারের কাছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনী হুমকি ও আর্থিক চাহিদা জানিয়ে বার্তা পাঠানো ২৯ বছর বয়সী শামীম ওসমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রেপ্তার করেছে।
সকালবেলায় সাভার থেকে গিয়ে শামীমকে গৃহে আটক করা হয় এবং তার গ্রামীয় বাড়ি রাজশাহী বাঘা উপজেলায় অবস্থিত বলে জানা যায়। গ্রেফতারকালে শামীমের পরিচয় পেশাদার প্রতারক হিসেবে প্রকাশ পায়; তার বিরুদ্ধে পূর্বে একই রকম প্রতারণার অভিযোগ ছিল।
সিআইডি জানিয়েছে, শামীমের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে রাজশাহীতে কোনো আওয়ামী লীগের নেতাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না এবং নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগই পরিচালনা করবে। তাছাড়া, মাসিক সংগ্রহের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে দ্রুত বিকাশে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। এসব দাবি সিআইডি অনুসারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের অন্তর্ভুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানিয়েছে, শামীম মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পরিচয় ব্যবহার করে ডিসি-কে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। বার্তাটি সন্দেহজনক বলে সিআইডি-কে জানানো হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় শামীমের আইপি ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার পর শামীমকে বাঘা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। সিআইডি উল্লেখ করেছে, শামীমের পূর্বে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত চালু ছিল, যা তার পুনরাবৃত্তি অপরাধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
অধিক তদন্তে শামীমের বার্তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান করা হবে। সিআইডি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বার্তা ও আর্থিক তথ্যের বিশ্লেষণ চলমান এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
বিষয়টি প্রকাশের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচনী সংস্থার দৃষ্টিতে নিরাপত্তা ও তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সিআইডি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এধরনের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি বা আর্থিক চাহিদা জানানো হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাকে বাঘা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে। আদালতের তারিখ ও শাস্তি সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।
এই ঘটনার পর সিআইডি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও প্রতারণা রোধে তদবির বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, নির্বাচনী সময়ে এমন ধরনের ভুয়া বার্তা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালু রয়েছে এবং তার আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে তথ্য নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি গৃহীত হবে।



