যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ প্রকল্পে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয় এবং আবুধাবি এই উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউএই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বোর্ড অব পিসের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। এভাবে আবুধাবি ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো প্রথম সরকারগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সমর্থনটি আসে এমন সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছে। পরিকল্পনাটি গাজা সংঘাত থেকে শুরু করে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানে বিস্তৃত হওয়ার লক্ষ্য রাখে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ বিষয়ে অস্পষ্ট মন্তব্য করে জানান, তার দেশও প্রয়োজনীয় শর্তে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রাখে। একই সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিস্তারিত জানার শর্তে নীতিগত সমর্থন প্রকাশ করেন।
ইউরোপের কিছু দেশ সনদের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে এটি জাতিসংঘের ভূমিকা ও কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে পারে বলে ভয় পোষণ করে। ট্রাম্প পূর্বে জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানে যথাযথ সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুলেছেন।
খসড়া সনদে উল্লেখ আছে যে বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্পকে আজীবন পদ দেওয়া হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের মেয়াদে সদস্যপদ প্রদান করা হবে, তবে এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দিলে স্থায়ী সদস্যপদ অর্জন করা সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউসের এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়েছে, এই শর্তটি শুধুমাত্র সেই দেশগুলোকে স্থায়ী সদস্যপদ দেবে, যারা শান্তি, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করবে।
হাঙ্গেরি ইতিমধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই এই উদ্যোগে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ দেশ প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও, ব্যক্তিগতভাবে তারা জাতিসংঘের প্রভাব ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বোর্ড অব পিসের গঠন ও শর্তাবলী আন্তর্জাতিক সংস্থার কাঠামোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে বিদ্যমান বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সঙ্গে টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি নতুন শান্তি সংস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, জাতিসংঘের প্রভাবকে কীভাবে পুনর্গঠন করবে তা এখনো অনিশ্চিত।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের দল সনদের চূড়ান্ত রূপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নেবে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক অবদান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চালু করবে। ইউএইর মতো প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশের সমর্থন, অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ একসাথে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সময়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কীভাবে কাজ করবে এবং এটি বিদ্যমান শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করবে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



