বুদাপেস্টে সোমবার ইউরোপের প্রায় বিশটি ফুটবল সমিতির প্রধান একত্রিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা ও তার ফলে ফুটবলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো যেতে পারে তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন। এ সভা হাঙ্গেরীয় ফুটবল ফেডারেশনের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের পাশে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ, যা ইউইএফএর সদস্য দেশ, তাই ট্রাম্পের মন্তব্যকে অঞ্চলগত নিরাপত্তা ও ক্রীড়া নীতি উভয়েরই সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল নেতারা এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ (১০৪টির মধ্যে ৭৮টি) জুন‑জুলাই মাসে আয়োজনের কথা বিবেচনা করলে চাপ বাড়ছে।
কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের পথে অগ্রসর হন, তবে ইউইএফএ নেতৃত্বাধীন বয়কট বা অন্যান্য শক্তিশালী প্রতিবাদমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে। এদিকে, ফিফার শীর্ষমন্ডল, যা যুক্তরাষ্ট্রের শাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, বর্তমানে এমন কোনো পদক্ষেপকে অপ্রত্যাশিত বলে বিবেচনা করছে।
বয়কটের আহ্বান ইতিমধ্যে জার্মানির একজন রাজনীতিবিদ দ্বারা শেষ বিকল্প হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে, এবং নেদারল্যান্ডসে একটি অনলাইন পিটিশন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রায় ৯০,০০০ স্বাক্ষরে পৌঁছেছে। বুদাপেস্টে উপস্থিত সদস্যরা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি পূর্বের কোনো প্রেসিডেন্সিতে না দেখা মাত্রার উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এবং এটিকে ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বেশিরভাগ ফুটবল সমিতি তাদের নিজ নিজ সরকারের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও কিছু সূত্র আরও বিস্তৃত ক্রীড়া-রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ইউইএফএ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন না হলে অতিরিক্ত সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের দরকার হতে পারে।
এই আলোচনাগুলো ইউরোপীয় ফুটবলের কূটনৈতিক দিককে নতুন করে উন্মোচিত করেছে, যেখানে ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি একসঙ্গে সংযুক্ত হয়ে একটি জটিল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।



