ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB) তার সর্বশেষ সভায় ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR) সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বিধান অনুযায়ী VAR দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারবে, তবে শুধুমাত্র তখনই যখন স্পষ্ট প্রমাণ থাকে যে কার্ডটি ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তা লাল কার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। একই শর্তে অন্য দলকে ভুলভাবে শাস্তি দেওয়া হলে রিভিউ করা যাবে।
কর্ণার সিদ্ধান্তেও VAR এখন হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে, তবে তা শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন সিদ্ধান্তটি স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণিত হয় এবং তা তৎক্ষণাৎ, খেলা পুনরায় শুরুতে কোনো বিলম্ব না ঘটিয়ে যাচাই করা যায়। IFAB এই পরিবর্তনগুলোকে VAR সিস্টেমের “নির্দিষ্ট সম্প্রসারণ” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে VAR এর পরিধি এখনো কেবল গোল, পেনাল্টি, লাল কার্ড এবং ভুল পরিচয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
গোলকিপারদের জন্য “কাউন্টডাউন প্রিন্সিপল”-এও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে গোলকিপারকে হাতে থাকা বল ছেড়ে দিতে আট সেকেন্ডের সময় দেওয়া হতো; এখন এই সময়সীমা গল‑কিক এবং থ্রো‑ইন উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, গোলকিপারকে গল‑কিক নেওয়া বা থ্রো‑ইন করার সময় আট সেকেন্ডের মধ্যে বল ছেড়ে দিতে হবে, না হলে ফ্রি কিকের শাস্তি আরোপিত হতে পারে।
এই নতুন নিয়মগুলো IFAB এর বার্ষিক ব্যবসায়িক সভায় অনুমোদিত হয় এবং আগামী মাসের সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবর্তনগুলোকে ইউরোপের বিভিন্ন লিগ ও প্রতিযোগিতার আয়োজকরা দীর্ঘ সময়ের ব্যাঘাত কমাতে চাওয়ার একটি ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এছাড়াও, পরিবর্তিত নিয়মের মধ্যে একটি নতুন ১০ সেকেন্ডের সীমা যুক্ত করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়কে পরিবর্তনকালে মাঠ ছাড়তে হলে মেনে চলতে হবে।
ফ্যানদের মধ্যে VAR এর এই অতিরিক্ত ক্ষমতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও, সাম্প্রতিক সময়ে VAR নিয়ে অসন্তোষের কোনো চিহ্ন কমেনি। উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে ক্যারাবাও কাপের একটি ম্যাচে নিউক্যাসল ও ম্যানচেস্টার সিটি দলের মধ্যে পাঁচ মিনিটের বিলম্ব ঘটেছিল, যখন সেমি‑অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা ভক্তদের মধ্যে VAR নিয়ে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে।
IFAB এর নতুন নীতি মূলত খেলার গতি বজায় রাখা এবং অনাবশ্যক বিরতি কমানোর লক্ষ্যে গৃহীত। VAR কে দ্বিতীয় হলুদ ও কর্নার রিভিউতে সীমিত করা, এবং গল‑কিক ও থ্রো‑ইনের সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে রেফারির সিদ্ধান্তে দ্রুততা আনা সম্ভব হবে বলে বোর্ডের ধারণা। তবে, VAR এর পরিধি অতিরিক্ত বাড়িয়ে না দিয়ে, কেবল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে।
এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও সময়ই বলে দেবে। তবে স্পষ্ট যে, IFAB এখনো VAR কে কেবল গোল, পেনাল্টি, লাল কার্ড এবং ভুল পরিচয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, এবং খেলা চলাকালীন অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে গেমের প্রবাহে ব্যাঘাত না ঘটাতে সচেষ্ট।
সারসংক্ষেপে, IFAB এর নতুন বিধান VAR কে দ্বিতীয় হলুদ ও কর্নার রিভিউতে অনুমতি দেবে, গল‑কিক ও থ্রো‑ইনের জন্য আট সেকেন্ডের সময়সীমা আরোপ করবে, এবং খেলোয়াড়ের পরিবর্তনের সময় ১০ সেকেন্ডের সীমা নির্ধারণ করবে। এই সব পরিবর্তন আগামী মাসের AGM-এ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হলে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মের এই সূক্ষ্ম সমন্বয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।



