22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা, দুই বছর পরই বাড়তি ভাড়া অনুমোদিত

ঢাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা, দুই বছর পরই বাড়তি ভাড়া অনুমোদিত

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) গতকাল সিটি হলের প্রেস কনফারেন্সে নতুন বাড়ি ভাড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাড়িওয়ালারা দুই বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া বাড়াতে পারবেন না, এবং বাড়তি ভাড়া শুধুমাত্র জুন‑জুলাই মাসে নির্ধারিত হবে।

DNCC প্রশাসক মোহাম্মদ আজাজের মতে, এই নির্দেশিকা হাউস রেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৯১-এর ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে মোট ১৬টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দেশিকায় ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে; প্রতি বছরের ভাড়া বাড়ি বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশ অতিক্রম করা যাবে না।

বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে উভয়কেই এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভাড়া সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসারকে জানাতে হবে, যিনি সমাধানের দায়িত্ব নেবেন। এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

আজাজ উল্লেখ করেছেন, ঢাকায় প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ বসবাস করলেও, উত্তর ও দক্ষিণ দু’প্রান্তের মোট বাড়ির সংখ্যা মাত্র ২০ থেকে ২৫ লক্ষের মধ্যে। ফলে শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দা ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছেন। গ্রামীণ থেকে নগরে গৃহস্থালির স্থানান্তর, ব্যক্তিগত অভিবাসন এবং প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক সুবিধার কেন্দ্রীয়করণই এই চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে।

বাড়ি বাজারের চাহিদা বাড়ার ফলে ভাড়া বাড়ার প্রবণতা তীব্র হয়েছে। আজাজের তথ্য অনুযায়ী, আয় থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়ায় ব্যয় করা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়, তবে ঢাকার বেশিরভাগ বাসিন্দা তাদের আয়ের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়ায় ব্যয় করছেন। এই উচ্চ ব্যয়জনিত চাপের ফলে গৃহস্থালির আর্থিক ভার বাড়ছে।

হাউস রেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৯১-এর বাস্তবায়নে জটিলতা ও অস্পষ্টতা, পাশাপাশি স্থানীয় সরকার স্তরে ধীরগতি সম্পাদন, অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট সময়সীমা ও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় থাকে।

অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের অধিকারও উপেক্ষিত হয়েছে বলে আজাজ স্বীকার করেছেন। ভাড়া থেকে আয় পাওয়া অনেক বাড়িওয়ালা এই বিধানের ফলে তাদের আর্থিক স্বার্থে প্রভাব পড়তে পারে, তাই নতুন নির্দেশিকায় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যও কিছু ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভাড়া বৃদ্ধি শুধুমাত্র দুই বছর পরই অনুমোদিত হবে, এবং তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে করা হবে। এই ব্যবস্থা ভাড়াটেদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কমাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের জন্য জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসারকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এই পদক্ষেপটি ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালার উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

আজাজের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি সরবরাহের ঘাটতি বাড়ছে, যা ভাড়া বাড়ার মূল কারণ। নতুন নির্দেশিকা এই ঘাটতি মোকাবেলায় ভাড়ার হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সমাধান প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, DNCC-এর এই নতুন ভাড়া নির্দেশিকা ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালার মধ্যে সমতা রক্ষা, ভাড়া বৃদ্ধির অতিরিক্ততা রোধ এবং শহরের বাসস্থান সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই নির্দেশিকার কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি শহরের গৃহস্থালি বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments