সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে গত বছর ১৪ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া গুলিবিদ্ধে ১৫ জনের মৃত্যু এবং ৪০ জনের আঘাতের পর, অস্ট্রেলিয়ার সরকার নতুন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করেছে। পার্লামেন্টের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৯৬ ভোটে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, বিপক্ষে ৪৫ ভোট। এখন এই বিল সেনেটের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
বন্ডাইতে গুলি চালানো দুই ব্যক্তি, এক বাবা ও তার পুত্র, দুজনই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকের মালিক ছিলেন। হানুক্কা উৎসবের সময় সমুদ্রতটে জমায়েতের ওপর গুলি চালিয়ে তারা ১৫ জনকে হত্যা করে এবং আরও ৪০ জনকে আহত করে। এই ভয়াবহ হামলা অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র নীতির পুনর্বিবেচনার দরজা খুলে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক উল্লেখ করেন, যদি সেই সময়ে কঠোর অস্ত্র আইন কার্যকর থাকত, তবে হামলাকারীরা অস্ত্র পেতে পারত না। তিনি যুক্তি দেন, আগের নিয়মের ঘাটতি এই রকম ট্র্যাজেডি ঘটতে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজও একই সময়ে দেশজুড়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন বছরের প্রথম দিনেই পার্লামেন্টে এই বিল পাস করে তিনি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন। তার মতে, কঠোর নিয়ম না থাকলে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বিলের মূল বিষয়গুলোতে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের আমদানি ও বিক্রয়ের উপর নতুন সীমা আরোপ, লাইসেন্সের কঠোর শর্ত, এবং অস্ত্রের মালিকানা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা। এছাড়া, হিংসাত্মক গোষ্ঠী ও ঘৃণা প্রচারকারী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত।
বিলের একটি ধারা অনুযায়ী, ঘৃণা ভিত্তিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়া গোষ্ঠীগুলোকে সরকার তালিকাভুক্ত করবে এবং দুই বছর পরপর পার্লামেন্টের যৌথ কমিটি এই তালিকা পর্যালোচনা করবে। এতে চরমপন্থী সংগঠনগুলোকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
বিলের সমর্থকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ সন্ত্রাসী হামলা রোধে সহায়ক হবে। তারা জোর দেন, কঠোর নিয়ম না থাকলে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, বিলের বিরোধীরা কিছু বিধানের অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ গৃহস্থালীর স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকারকে ক্ষুন্ন করতে পারে এবং আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। এই উদ্বেগের ফলে ৪৫ ভোটের বিরোধী দল গঠন হয়েছে।
বিলটি এখন সেনেটের হাতে, যেখানে আরও আলোচনা ও সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেনেটের অনুমোদন পেলে, নতুন নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর হবে এবং অস্ত্রের আমদানি, বিক্রয় ও মালিকানার উপর কঠোর নজরদারি শুরু হবে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সেনেটের ভোট ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যদি বিলটি পাশ হয়, তা অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র নীতি বিশ্বে সবচেয়ে কঠোরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে স্বীকৃত হবে।
অন্যদিকে, যদি সেনেট বিলটি প্রত্যাখ্যান করে, তবে সরকারকে নতুন কোনো আইন প্রণয়নের জন্য পুনরায় আলোচনা করতে হবে, যা সম্ভবত সময়সাপেক্ষ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, বন্ডাই হামলার পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা এনে দিয়েছে। সরকার এখন কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, আর পার্লামেন্টের উভয় ঘর এই বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।



