মধুর ভাণ্ডারকারের সর্বশেষ চলচ্চিত্র প্রকল্পের ঘোষণা বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। তিনি ‘বোলিভুডের স্ত্রীরা’ শিরোনামের একটি ছবি তৈরি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যা বোলিভুডের নারীদের ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সংগ্রাম এবং গোপন কেলেঙ্কারির গভীরে প্রবেশের লক্ষ্য রাখে। এই প্রকল্পটি তার পূর্বের কাজের তুলনায় আরও তীব্র এবং সরাসরি উপস্থাপনা প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পেজ‑৩’ চলচ্চিত্রের ২০ বছর পূর্ণের উপলক্ষে, ভাণ্ডারকারের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ছবির পুনঃপ্রদর্শনের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বছরই ‘পেজ‑৩’ পুনরায় থিয়েটারে আসবে, যাতে নতুন প্রজন্মের দর্শকরা তার মূল বার্তা পুনরায় অনুভব করতে পারে। ছবির অধিকার বর্তমানে সাহারা গ্রুপের হাতে, এবং তিনি ভবিষ্যতে তার কাজের একটি রেট্রোস্পেকটিভ বা চলচ্চিত্র উৎসবের পরিকল্পনা উল্লেখ করেছেন।
‘পেজ‑৩’ ছাড়াও ভাণ্ডারকারের ‘চাঁদনি বার’, ‘কর্পোরেট’, ‘ফ্যাশন’ এবং ‘হিরোইন’ মতো বহু সমালোচনামূলক চলচ্চিত্রের নাম উল্লেখযোগ্য। এই ছবিগুলো সামাজিক ও শিল্প জগতের বিভিন্ন স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মিডিয়া নৈতিকতা, ফ্যাশন জগতের গোপন দিক এবং শিল্পী জীবনের অন্ধকার দিক নিয়ে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। তার কাজের বৈশিষ্ট্য হল বাস্তবতা ও কল্পনার সীমানা ভেঙে দিয়ে দর্শকের অস্বস্তিকর সত্য উপস্থাপন করা।
‘বোলিভুডের স্ত্রীরা’ ছবির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলছেন, এটি বোলিভুডের নারীদের জীবনের অন্তর্নিহিত কষ্ট, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং গোপন কেলেঙ্কারির একটি কঠোর বিশ্লেষণ হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ছবিটি ‘পেজ‑৩’ এর তুলনায় আরও তীব্র হবে এবং দর্শকের জন্য এক নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে। ছবির শুটিংয়ের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত কাস্ট নির্ধারিত হয়নি, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মানসম্পন্ন অভিনেতাদের নির্বাচন করবেন।
বাজেটের দিক থেকে তিনি স্বীকার করেছেন যে এই প্রকল্পের আর্থিক পরিমাণ সীমিত, তবে বিষয়বস্তুর গুণমান ও গভীরতা তা পূরণ করবে। তিনি ছবিটিকে ‘পেজ‑৩’ এর ‘স্টেরয়েড’ সংস্করণ বলে তুলনা করেছেন, যা তার পূর্বের কাজের তুলনায় অধিক তীব্রতা ও প্রভাবশালীতা নির্দেশ করে।
নেটফ্লিক্সের ‘ফ্যাবুলাস লাইভস অফ বোলিভুড ওয়াইভস’ সিরিজের সঙ্গে তুলনা করা হলে, ভাণ্ডারকারের মতে তার চলচ্চিত্রের স্বর ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই দুই কাজের মধ্যে কোনো সরাসরি তুলনা হবে না, কারণ তার ছবি আরও কঠোর এবং দর্শকের অস্বস্তিকর সত্য প্রকাশের দিকে মনোযোগ দেবে।
ভাণ্ডারকারের কাজের বৈশিষ্ট্য হল সামাজিক স্তরে অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরা, যা কখনও কখনও শিল্প ও ফ্যাশন জগতের প্রতিক্রিয়া উসকে দেয়। ‘পেজ‑৩’ ছবির প্রকাশের পর শিল্প জগতের কিছু অংশে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, এবং ‘ফ্যাশন’ ও ‘হিরোইন’ ছবিগুলোও একই রকম বিতর্কের মুখে পড়েছিল। এই ধারাবাহিকতা তার চলচ্চিত্রকে একটি সামাজিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
‘বোলিভুডের স্ত্রীরা’ প্রকল্পের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে; ভাণ্ডারকার জানান তিনি গত দুই বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন এবং একারোটি খসড়া রচনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই ছবি দর্শকের জন্য এক নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে এবং বোলিভুডের নারীদের বাস্তব জীবনের অন্ধকার দিককে উন্মোচন করবে। শেষ পর্যন্ত, তিনি এই কাজকে দর্শকের জন্য এক চোখ খুলে দেয়া অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখছেন।



