বিএফএল এলিমিনেটরে সিলেট টাইটান্স রাংপুর রাইডার্সকে তিন উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে কোয়ালিফায়ার ২-এ অগ্রসর হয়েছে। ম্যাচটি মিরপুরের একটি কম স্কোরিং পিচে অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফলটি টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের দিক নির্ধারণ করেছে।
গেমটি সামগ্রিকভাবে কম রানের ছিল, তবে শেষ ওভারে সিলেটের বিদেশি রাইডার ক্রিস ওয়েক্সের ছয়টি রানের ছক্কা ম্যাচের ফলাফলকে চূড়ান্ত করে। শেষ ডেলিভারির এই ছক্কা রাইডার্সের স্কোরকে অল্পই বাড়িয়ে সিলেটকে জয় নিশ্চিত করে।
সিলেটের এই জয় দলকে কোয়ালিফায়ার ২-এ স্থান দেয়, যেখানে তারা পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে। রাইডার্সের জন্য এই পরাজয় টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সংকেত দেয়।
পরবর্তী দিনেই অনুষ্ঠিত পোস্ট-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশ টি২০ ক্যাপ্টেন লিটন দাস টিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বর্তমান বিএফএল পিচের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
লিটন দাস জিজ্ঞাসা করেন, “আমরা কি সত্যিই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারব?” এবং উল্লেখ করেন, “এখনো বিশ্বকাপের আগে অনেক সময় বাকি, তবে আমরা নিশ্চিত নই যে আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারব কিনা।” তার এই মন্তব্য টিমের মনোভাবের অস্থিরতা প্রকাশ করে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর মধ্যে চলমান বিরোধের কারণে অনিশ্চিত। বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতীয় মাটিতে ম্যাচ খেলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে।
বিসিবি’র এই অনুরোধের ফলে আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর সঙ্গে আলোচনার গতি ধীর হয়ে গেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে দুই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা এখনো পৌঁছায়নি।
এই উত্তেজনার শিকড় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়, যখন ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক মুস্তাফিজুর রহমানকে বেসিসি নির্দেশে দল থেকে বাদ দেয়। রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল বলে উভয় পক্ষই স্বীকার করে।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লিটন দাস উল্লেখ করেন, “এই পরিস্থিতি আমাদের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে,” যা টিমের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে।
লিটন দাস আরও বলেন, “এই পিচটি টি২০ ফরম্যাটের জন্য আদর্শ নয়। এটা কি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য উপযুক্ত, তা স্পষ্ট নয়।” তার কথায় বর্তমান পিচের গতি ও বাউন্ডারির মানকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ পায়।
সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী ম্যাচ কোয়ালিফায়ার ২-এ নির্ধারিত, যেখানে তারা নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে। রাংপুর রাইডার্সের জন্য এখনো টুর্নামেন্টে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের শেষ সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত, তবে খেলোয়াড় ও কোচরা প্রস্তুতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



