বিএনপির সভাপতি তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার বনানী এলাকায় একটি দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ক্ষমতায় আসলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি গাছ রোপনের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তিনি এই পরিকল্পনা দেশের পরিবেশগত সমস্যার সমাধান এবং নগর‑গ্রামীণ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সভা অনুষ্ঠিত হয় বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন এবং রুহের মাগফেরাতের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান তার পূর্বের অভিবাসন অভিজ্ঞতা ও দেশের বর্তমান সবুজায়ন অবস্থা তুলে ধরেন।
খাল খনন প্রকল্পের গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলেন, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকার বহু পুরনো খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি জমা, বন্যা ও নগর‑গ্রাম্য পরিবেশে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই খালগুলো পুনরায় চালু করলে শহরের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হবে এবং কৃষকদের জন্য সেচের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ঢাকার সবুজায়ন হ্রাসের দিকে তার দৃষ্টিপাতের কারণ তিনি ১৭ বছর আগে বিদেশে বাধ্য হয়ে গিয়েছিলেন, আর ফিরে এসে দেখেন শহরের গাছপালা ও পার্কের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, “ঢাকার সবকিছু যেন শুকনো হয়ে গেছে”, এবং এই পরিবর্তনকে উল্টে দিতে তিনি বিশাল পরিসরের গাছ রোপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
গাছ রোপনের লক্ষ্য পাঁচ বছর মেয়াদে ২৫ কোটি গাছ, যা দেশের বায়ু গুণমান উন্নত করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাবে। এই লক্ষ্যে তিনি দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি‑বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা উল্লেখ করেন, যাতে গাছের চারা সরবরাহ সহজ হয় এবং রোপণ কার্যক্রম দ্রুত অগ্রসর হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে এই বৃহৎ পরিকল্পনা পাশাপাশি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা স্বীকার করে বলেন, “রাজনীতিতে বিরোধীর সমালোচনা স্বাভাবিক, তবে এখন তা বদলে কাজের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।” তিনি সকল পক্ষকে একত্রে সংকট সমাধানের জন্য কথোপকথনে অংশ নিতে আহ্বান জানান।
ট্রাফিক জটিলতা মোকাবিলায় তিনি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মানোন্নয়ন এবং মেট্রোরেলের পরিবর্তে মনোরেল ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব দেন। বনানী, মোহাম্মদপুর ও অন্যান্য এলাকাকে মনোরেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করলে ট্রাফিকের চাপ কমবে বলে তিনি আশাবাদী।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনি এটাও জানান যে, খেলাধুলাকে পেশার স্তরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই দিক থেকে পুনর্গঠন করা হবে। ইংরেজি ভাষা শেখার পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রীড়া অংশগ্রহণের নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা প্রতিটি বিদ্যালয়ে কার্যকর করা হবে। একই রকম পরিকল্পনা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল ও শারীরিকভাবে সমন্বিতভাবে বিকাশ পায়।
এই ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সরকারী নীতি ও বাজেটের দিক থেকে এই ধরনের বৃহৎ পরিবেশ ও অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যদি তারেক রহমানের দল সরকারে আসতে পারে, তবে এই পরিকল্পনা দেশের পরিবেশ নীতি, নগর পরিকল্পনা এবং ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সমর্থন, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বার্থের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের ঘোষিত খাল খনন ও গাছ রোপনের বৃহৎ প্রকল্প দেশের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মোড় তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনার অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন কিভাবে পরিচালিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



