সপ্তাহের শেষের দিন অ্যান্ডালুসিয়ার আদামুজ শহরের কাছে একটি উচ্চগতির ট্রেনের ধাক্কা ঘটায় ৪২ জনের মৃত্যু এবং বহু আহত। রেললাইনটি ম্যালাগা থেকে উত্তর দিকে চলছিল এবং সরল পথে ডেরেইল হয়ে বিপরীতমুখী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলে দুইটি ট্রেনই ডেরেইল হওয়ায় ধ্বংসাবশেষে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়; মঙ্গলবার বিকেলে তিনটি দেহ ধ্বংসাবশেষ থেকে বের করা হয় এবং ৪২তম শিকারীও একই স্থানে পাওয়া যায়। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের ত্বরিত চিকিৎসা প্রদান করা হয়, তবে অনেকের অবস্থার গুরুতর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রয়োজন হবে।
স্পেনের উচ্চগতির রেল, যাকে AVE বলা হয়, ১৯৯২ সালে চালু হওয়ার পর থেকে দেশের আধুনিকায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল দিয়ে নির্মিত এই নেটওয়ার্ক দ্রুত, নিরাপদ এবং সময়নিষ্ঠ পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করেছে। তবে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্টেলা নিকটবর্তী একটি ডেরেইল, যেখানে ৮০ জনের মৃত্যু হয়, তা AVE নেটওয়ার্কের অংশ ছিল না, যদিও গতি উচ্চ ছিল।
এইবারের ধাক্কা স্পেনের সবচেয়ে পুরনো AVE রুটে ঘটেছে, যা মাদ্রিদকে অ্যান্ডালুসিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। রেনফে (Renfe) এর প্রেসিডেন্ট আলভারো ফার্নান্দেজ হেরেডিয়া উল্লেখ করেন যে, উভয় ট্রেনই অতিরিক্ত গতি না করে চলছিল, তাই মানবিক ভুলের সম্ভাবনা কম। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্ডে-মার্লাস্কা জোর দিয়ে বলেন যে, ধ্বংসাত্মক কাজের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষণাধীন ট্রেনটি ইতালিয়ান কোম্পানি ইরিও (Iryo) এর মালিকানাধীন এবং ২০২২ সালে উৎপাদিত। পরিবহন মন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্টে জানান যে, ডেরেইল হওয়া প্রথম গাড়ি, অর্থাৎ ছয় নম্বর কারেজ, বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হবে, কারণ সেটি থেকে বহু প্রযুক্তিগত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, ইউরোপীয় রেল নিরাপত্তা সংস্থা (ERA) ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল দিয়ে গড়ে ওঠা স্প্যানিশ রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা মানের ওপর প্রশ্ন উঠেছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় রেল নীতি পুনর্বিবেচনার দরকারি হতে পারে।
ইউরোপের অন্যান্য উচ্চগতির রেল সিস্টেমের সঙ্গে তুলনা করলে, জার্মানি ও ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্কে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুরূপ বড় দুর্ঘটনা কমই ঘটেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, স্পেনের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেমের উন্নয়ন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
দূরদর্শী কূটনৈতিক সূত্রে দেখা যায়, স্পেনের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে পর্তুগাল এবং ফ্রান্স, এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ডেরেইল হওয়া ট্রেনের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ, রেললাইনটির কাঠামোগত পর্যালোচনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল আপডেট করা। তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথা বলা হয়েছে, এবং তা ভিত্তিক করে ইউরোপীয় রেল নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন করা হতে পারে।



