27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউকে চাগোস চুক্তি রক্ষা করে, ট্রাম্পের সমালোচনার পর

ইউকে চাগোস চুক্তি রক্ষা করে, ট্রাম্পের সমালোচনার পর

ইউনাইটেড কিংডম সরকার চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে মরিশাসের কাছে হস্তান্তর এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়াকে লিজে রাখার চুক্তি রক্ষা করার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সমালোচনার পরই এই মন্তব্যগুলো প্রকাশিত হয়।

চুক্তিটি মে মাসে স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল্য প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার)। এর অধীনে যুক্তরাজ্য মরিশাসকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দেবে, তবে ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারিকভাবে একই রকম থাকবে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাজ্য এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে দেওয়া একটি বড় ভুল এবং এটি চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষের জন্য দুর্বলতা সৃষ্টি করবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘মহা বোকামি’ এবং ‘সম্পূর্ণ দুর্বলতা’ বলে বর্ণনা করেন।

ইউকে সরকার এই সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে জাতীয় নিরাপত্তা কখনোই আপসের বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী অফিসের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করে এবং উল্লেখ করেন যে, গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই চুক্তির শক্তি স্বীকার করেছিলেন।

অধিকন্তু, যুক্তরাজ্য তার পাঁচ চোখ (Five Eyes) জোটের অন্যান্য সদস্য দেশ—কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড—এর সমর্থনও পেয়েছে বলে জানায়। এই জোটের সমর্থন চুক্তির কূটনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে।

চুক্তির বাস্তবায়ন এখনও পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, সরকার চুক্তির বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না এবং চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হবে।

প্রাথমিকভাবে, যুক্তরাজ্য একটি সরকারি মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছিল যে ডিয়েগো গার্সিয়ার ঘাঁটি আদালতের কিছু রায়ের পর ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং ভবিষ্যতে তার কার্যক্রমে বাধা আসতে পারে। এই রায়গুলোকে অগ্রাহ্য করে চুক্তি করা হয়।

চুক্তির আর্থিক দিক থেকে, যুক্তরাজ্যকে মরিশাস থেকে একাধিক বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই চুক্তি যুক্তরাজ্যের বিদেশ নীতি এবং সামরিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। বিশেষ করে ভারতীয় মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি বিবেচনা করে, যুক্তরাজ্য তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।

ট্রাম্পের সমালোচনা এবং যুক্তরাজ্যের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা প্রকাশ করে। উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন বা সমালোচনা করছে।

পরবর্তী ধাপে, পার্লামেন্টে চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলবে, এবং যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনায় এই পরিবর্তনের প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এই চুক্তি এবং তার পরবর্তী আলোচনাগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোতে কী প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য তার নিরাপত্তা নীতি রক্ষা করার পাশাপাশি মরিশাসের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments