22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসরকারি ঋণ চাহিদা মেটাতে পুঁজিবাজারের ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে বি.এন.পি.র স্থায়ী কমিটির...

সরকারি ঋণ চাহিদা মেটাতে পুঁজিবাজারের ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে বি.এন.পি.র স্থায়ী কমিটির সদস্য আহমদ খসরু চৌধুরী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আহমদ খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের আয়োজিত ‘পোস্ট ইলেকশন ২০২৬ হরিজন: ইকোনমি, পলিটিক্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট’ সম্মেলনে সরকারের ঋণ চাহিদা পূরণে পুঁজিবাজারের ভূমিকা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেটকে প্রধান তহবিল উৎস হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

চৌধুরী বলেন, সরকার মিউনিসিপ্যাল বন্ড বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণের চাপ হ্রাস করতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিমান কেনা, রেলওয়ে সম্প্রসারণের মতো বৃহৎ প্রকল্পে বিদেশি ঋণের পরিবর্তে সরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ জাগাতে হলে দেশে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য, এ কথায় চৌধুরীর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সঠিক নিয়মাবলী ও বাজারের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা যায়, তবে বৈদেশিক মূলধন প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রত্যাশা করা যায়।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মূল কারণ হিসেবে তিনি বাজারের আস্থার অভাবকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বাজারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের কাঠামো উন্নত করা কঠিন হবে। এছাড়া, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ হিসাবরক্ষণ ও স্বচ্ছতার ঘাটতি, যা আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিশ্লেষক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনার, ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতিনিধিরা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন। সকল অংশগ্রহণকারী একমত যে, পুঁজিবাজারের গভীরতা ও তরলতা বাড়াতে নীতি নির্ধারণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

চৌধুরীর বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে বন্ড ইস্যুর পরিমাণ বাড়বে, যা সরকারি ঋণের গঠনকে পুনর্গঠন করবে বলে পূর্বাভাস দেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, বন্ড বাজারের সাফল্য নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দৃঢ়তা, তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যের ওপর।

বাজারে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার জন্য স্বতন্ত্র তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্থা গঠন, বন্ড ইস্যুর জন্য সহজতর প্রক্রিয়া এবং কর সুবিধা প্রদান প্রস্তাবিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সহজে সংগ্রহ করতে পারবে, ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুততর হবে।

সারসংক্ষেপে, চৌধুরীর বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা বাংলাদেশের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। বাজারের স্বচ্ছতা, স্বায়ত্তশাসন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর আস্থা গড়ে তোলাই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments