দিল্লি সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের আপাতত দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ২০ জানুয়ারি নেওয়া হয় এবং দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা সতর্কতামূলক এবং কোনো কূটনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে না বলে জানানো হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং দেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবারকে সাময়িকভাবে ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সম্পূর্ণভাবে চালু থাকবে এবং তাদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তাই কূটনৈতিক সেবা বা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় কোনো ব্যাঘাতের পূর্বাভাস নেই।
এই ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়। পূর্বে কিছু দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে একই রকম পরিবারিক প্রত্যাবর্তন বা অস্থায়ী স্থানান্তর নীতি গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ ঝুঁকির এলাকায় কর্মরত কর্মীদের পরিবারকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়া স্বাভাবিক, কারণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জনমত গঠনের সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক সতর্কতা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংলাপের প্রবাহে কোনো বাধা আসবে না। উভয় দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছে, এবং এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে ভারতীয় পরিবারিক সদস্যদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করবে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
সারসংক্ষেপে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারকে সাময়িকভাবে দেশে ফেরত পাঠানো একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যা কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে পরিবারগুলো আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারে।



