চাটগাঁ রয়্যালস মঙ্গলবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ছয় উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) ফাইনাল নিশ্চিত করে। দু’দল ৫০ ওভারের টি২০ ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়, যেখানে চাটগাঁ প্রথমে বল দিয়ে রাজশাহীর স্কোর সীমাবদ্ধ করতে চায়।
রাজশাহী ১৩৩ রান তৈরি করে, শেষ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত সব আউট হয়ে যায়। চাটগাঁ রয়্যালসের লক্ষ্য ছিল ১৩৪ রান, যা তারা ১৯.৩ ওভারে ১৩৪/৪ স্কোরে অর্জন করে। টার্গেটটি তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তবে পিচের চ্যালেঞ্জিং স্বভাবের কারণে স্কোরিং সহজ ছিল না।
ফাইনাল ওভারে চাটগাঁকে মাত্র নয় রান দরকার ছিল। ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলেই ছয় রান করে, তৃতীয় বলেই দুই রান যোগ করে এবং অবশিষ্ট দুই রান নিরাপদে শেষ করে। তিনি শেষ পর্যন্ত ৯ বলে ১৯ রান করে অআউট থেকে দলকে জয় নিশ্চিত করেন।
বোলিংয়ে চাটগাঁ রয়্যালস প্রথমে বল দিয়ে রাজশাহীর ব্যাটিংকে সীমাবদ্ধ রাখে। পেসার রিপন মন্ডল এবং অন্যান্য বোলারদের সমন্বয়ে দলটি শেষ বল পর্যন্ত ১৩৩ রান আটকে রাখে। এই পারফরম্যান্সের ফলে চাটগাঁকে লক্ষ্য পূরণের সুবিধা মিলেছে।
মাহেদি হাসান এবং পেসার আমের জামাল প্রত্যেকেই দুইটি উইকেট নেয়। তাদের যৌথ প্রচেষ্টা রাজশাহীর টপ অর্ডারকে দ্রুত অস্থির করে এবং মাঝারি ও শেষ ওভারে রানের প্রবাহকে বাধা দেয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিংয়ে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩৭ ball-এ ৪১ রান করে শীর্ষ স্কোরার হন। মাঝখানে আবদুল গাফফার সাকলাইনের দ্রুত ১৫ ball-এ ৩২ রান, দুইটি ফোর এবং তিনটি সিক্সের সঙ্গে দলকে ১৩০ রানের উপরে নিয়ে যায়।
তবে রাজশাহী ১৭তম ওভারে ৯৮/৭ স্কোরে আটকে যায়, এরপর সাকলাইনের দ্রুত আউট হওয়া পর্যন্ত রানের গতি কমে যায়। এই পতনই শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে সীমাবদ্ধ করতে সহায়তা করে।
চাটগাঁ রয়্যালসের শুরুর ব্যাটিংয়ে মিরজা তাহির বায়গ এবং মোহাম্মদ নায়েমের সংযোগ ৬৪ রান তৈরি করে। উভয়ের সমন্বয় দলকে স্থিতিশীল শুরুর ভিত্তি দেয়।
মোহাম্মদ নায়েম ৩০ রান করে আউট হন, আর মিরজা তাহির বায়গ ৪৭ ball-এ ৪৫ রান করে ইনিংসের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। তার স্থিতিশীলতা শেষ পর্যন্ত চাটগাঁকে টার্গেটের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
রাজশাহীর শেষ ওভারগুলোতে সাকলাইনের, হাসান মুরাদের এবং বিনুরা ফার্নান্দোর দ্রুত আউটিং দলকে অতিরিক্ত রানের সুযোগ দেয়, তবে চাটগাঁ ইতিমধ্যে লক্ষ্য অর্জনের পথে ছিল।
মাহেদি হাসানের শেষ মুহূর্তের আক্রমণ দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা চাটগাঁ রয়্যালসের জন্য প্রথমবারের মতো BPL ফাইনালের সুযোগ। দলটি পূর্বে কিছু অফ-ফিল্ড অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়। পরবর্তী ম্যাচে চাটগাঁ রয়্যালস ফাইনালে প্রবেশ করে শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত হবে।



