28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকপাকিস্তান ভারতীয় বিমান নিষেধাজ্ঞা ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ালো

পাকিস্তান ভারতীয় বিমান নিষেধাজ্ঞা ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ালো

পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) মঙ্গলবার জানিয়ে দেয় যে, ভারতীয় নিবন্ধিত সকল বিমান, যার মধ্যে সামরিক বিমানও অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য আরোপিত আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা এক মাস বাড়িয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ৫ টা (পাকিস্তান সময়) পর্যন্ত কার্যকর করা হবে।

এই নিষেধাজ্ঞা ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে শুরু হয়ে, পূর্বে নির্ধারিত শেষ তারিখের পরিবর্তে নতুন সময়সীমা পর্যন্ত চলবে। পিএএর বিবরণে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় মালিকানাধীন, পরিচালিত ও লিজ নেওয়া সব ধরণের বিমানকে আচ্ছাদিত করবে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও গৃহযুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত ড্রোনও অন্তর্ভুক্ত।

পিএএ উল্লেখ করে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গত নয় মাস ধরে কার্যকর থাকা বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সম্প্রসারণের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

হামলার পর ভারতীয় সরকার দ্রুতই ইন্ডাস নদীর পানির ভাগাভাগি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, যা পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দেয়।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পর, ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি এয়ারলাইন্সের জন্য একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, ফলে উভয় দেশের বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়ান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই পারস্পরিক নিষেধাজ্ঞা উভয় দেশের নাগরিক ও বাণিজ্যিক সংস্থার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

পরবর্তী সপ্তাহে, ৬ ও ৭ মে, ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের একাধিক শহরে সীমিত আক্রমণ চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে একটি বৃহৎ পরিসরের পাল্টা অভিযান শুরু করে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার লক্ষ্য রাখে।

পাকিস্তান দাবি করে, এই অভিযানে তারা সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি বহু ড্রোনও নাশ করেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত ৮৭ ঘণ্টা চলার পর, ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সাময়িক শান্তি স্থাপন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, তিনি এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন এবং উভয় পক্ষকে সংলাপের পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই মধ্যস্থতার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন, তবু চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় তাত্ক্ষণিক সংঘাতের ঝুঁকি কমে যায়।

পাকিস্তান পূর্বে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও একই ধরনের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। ঐ সময়ের নিষেধাজ্ঞা উভয় দেশের বাণিজ্যিক উড়ানের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতিতে ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। বিমান সংযোগের বিচ্ছিন্নতা সরাসরি দু’দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন, মানবিক সাহায্য ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অতিরিক্তভাবে, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নজরে আনা হয়েছে, যা উভয় দেশের এয়ার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হলে, আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে।

পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর নিষেধাজ্ঞার অবস্থা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা, উভয় দেশই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার পথে অগ্রসর হবে, যাতে বাণিজ্যিক ও মানবিক উড়ান পুনরায় চালু করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক চাপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা জোর দেন। উভয় দেশের সরকার যদি দ্রুত সংলাপের পথ গ্রহণ করে, তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা শেষ করে পারস্পরিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments