27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসির সতর্কবার্তা: জামায়াত‑এনসিপি সহ চার দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য চিঠি

ইসির সতর্কবার্তা: জামায়াত‑এনসিপি সহ চার দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য চিঠি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা সময়সূচি নির্ধারিত হওয়ার আগেই চারটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) লিখিত সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিএনপি পক্ষ থেকে সিইসির কাছে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে, জামায়াত‑ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০ জানুয়ারি ইসির অফিস থেকে চিঠি পাঠিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি একটি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছে যে, ২১ জানুয়ারির পূর্বে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও উল্লিখিত দলগুলো আইন ভঙ্গ করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইসির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায়, কমিশন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রধান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’এর ১৮ নং ধারা লঙ্ঘনের জন্য সতর্কতা জানায়।

ইসির চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের ভোটার সংযোগ, সমাবেশ, পোস্টার বা অন্যান্য প্রচারণা কার্যক্রম আইনবহির্ভূত। তাই ২১ জানুয়ারির পূর্বে সব ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা না মানলে ভবিষ্যতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইসি সতর্ক করেছে।

বিএনপি এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, সতর্কবার্তা প্রাপ্ত দলগুলো এখনও কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি, তবে তারা ইসির নির্দেশনা মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পূর্বে কিছু দলকে জরিমানা বা নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো শাস্তি আরোপ করা হয়েছে, যা এই সতর্কবার্তার গুরুত্বকে বাড়িয়ে দেয়।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে সকল দলকে সমানভাবে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা হলে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া সহজ হবে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, যদি দলগুলো এই সতর্কতা উপেক্ষা করে এবং আবার লঙ্ঘন করে, তবে ইসির শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরিধি বাড়তে পারে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের আগে গণসংযোগ বা প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ, এবং এই নিয়মের লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট দল বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসির এই সতর্কবার্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভবিষ্যতে, ইসির কঠোরতা বজায় রাখলে রাজনৈতিক দলগুলোকে সময়সূচি মেনে চলতে বাধ্য করা সম্ভব হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশে অবৈধ কার্যকলাপের সম্ভাবনা কমে যাবে। একই সঙ্গে, এই ধরনের সতর্কতা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা কমিয়ে ভোটারদের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

ইসির এই সিদ্ধান্তের পর, নির্বাচনী সময়সূচি ও আচরণবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য সকল দলকে ত্বরিতভাবে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যদি কোনো লঙ্ঘন ধরা পড়ে, তবে ইসির শাস্তি আরোপের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে বলে ইসির মুখপাত্রের মন্তব্যে জানা যায়।

সারসংক্ষেপে, বিএনপির অভিযোগের পর ইসির পক্ষ থেকে জামায়াত‑ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে লিখিত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। এই সতর্কতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে আইনি শাস্তির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments