টাঙ্গাইল জেলার অ্যাডভোকেট বার সমিতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল‑৫ (সদর) আসনের মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে বিএনপির বিকল্পের অনুপস্থিতি তুলে ধরেন।
টুকু, যিনি দলীয় প্রচার কাজের দায়িত্বে আছেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সভায় উপস্থিত আইনজীবী ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলই বিএনপির সমতুল্য হতে পারে না। এ কথাটি তিনি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে একমাত্র দল হিসেবে বিএনপিকে উল্লেখ করে বলেন।
এছাড়াও তিনি দেশের অন্যতম নেতা, দেশনায়ক তরিক রহমানের বিকল্পের অনুপস্থিতি উল্লেখ করেন। তরিক রহমানের নেতৃত্বে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বজায় থাকবে, এটাই তার দৃষ্টিভঙ্গি।
টুকু দাবি করেন, যদি সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হয় আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তবে অধিকাংশই নির্দ্বিধায় তরিক রহমানের নাম উল্লেখ করবে। তিনি এটিকে বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে যে তরিক রহমানের হাতে দেশ নিরাপদ এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি বিএনপির নীতিমালা ও কর্মপদ্ধতিকে জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুলে ধরেন।
টুকু উল্লেখ করেন, বিএনপি কখনোই জনগণের বিরোধে কোনো কাজ করেনি এবং তাই দলটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা যায়। তিনি দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, যখনই দেশের গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, তখনই বিএনপি তা পুনরুদ্ধার করেছে।
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছর ধরে দলের নেতাকর্মী, কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন রূপে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই নির্যাতনের মধ্যে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক দমন অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি দলের জন্য একধরনের পরীক্ষারূপে বর্ণনা করেন।
টুকু বলেন, এই নির্যাতনের পরেও দলের সদস্যরা যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি পাননি, যা তিনি দলের প্রতি অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এই অবহেলার বিরুদ্ধে দলের স্বর তুলে ধরতে আহ্বান জানান।
বিএনপির ঐক্যবদ্ধতা ও জাতীয় সংহতির কথা উল্লেখ করে টুকু বলেন, দলটি একমাত্র সংগঠন যা দেশের ঐক্যের কথা নিয়মিতভাবে তুলে ধরে। তিনি শিহরণময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন সময়ে কিছু গোষ্ঠী দেশের বিভাজনের চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিএনপি ঐক্য বজায় রাখতে অটল রয়েছে।
সভার শেষে কোনো বিরোধী পক্ষের মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, ফলে টুকুর বক্তব্যই আলোচনার প্রধান দিকনির্দেশনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এই মন্তব্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে দলটির অবস্থান ও কৌশল সম্পর্কে বিশ্লেষকরা মন্তব্যের অপেক্ষা করছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।



