22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইন্দোরের ভিক্ষুক মঙ্গিলালের সম্পদ উন্মোচন, তিনটি বাড়ি ও গাড়ি সহ ঋণদাতা কার্যক্রম

ইন্দোরের ভিক্ষুক মঙ্গিলালের সম্পদ উন্মোচন, তিনটি বাড়ি ও গাড়ি সহ ঋণদাতা কার্যক্রম

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ব্যস্ত শরাফা বাজারে একটি লোহার গাড়ি টেনে এক ব্যক্তি ভিক্ষা করছেন। তিনি কাঁধে ব্যাগ, দু’হাতে জুতা বহন করে, সরাসরি কোনো সাহায্য চাওয়া না করেও পথচারীদের দানপ্রবণতা জাগিয়ে তোলেন। এই দৃশ্যটি স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি রেকর্ড করেছে।

বাজারের এই ভিক্ষুকের নাম মঙ্গিলাল, যাকে প্রথমে দরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে সম্প্রতি নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের ভিক্ষা বিরোধী অভিযানে তার প্রকৃত সম্পদ প্রকাশ পায়। তদন্তে জানা যায়, মঙ্গিলালের তিনটি বাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। এছাড়া তার মালিকানায় একটি মারুতি সুজুকি গাড়ি এবং তিনটি অটো রিকশা রয়েছে।

মঙ্গিলাল ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত ভিক্ষা করছিলেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা সংগ্রহ করতেন। তবে তিনি এই অর্থ ব্যবহার না করে, সন্ধ্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দিতেন। ঋণটি এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য ছিল এবং তিনি প্রতিদিন সুদ সংগ্রহ করে নিজের আয় বাড়াতেন।

অভিযানকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গিলাল সরকারীভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করছিলেন, যার ওপর তিনি দৈনিক ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা সুদ অর্জন করতেন। এই পদ্ধতিতে তিনি ভিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থকে আর্থিক লেনদেনে রূপান্তরিত করে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করছিলেন।

মঙ্গিলালের শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনা অধীনে একটি সরকারি বাড়ি পেয়েছেন। তবে তার পূর্বে থেকেই একাধিক সম্পত্তি ছিল, যার মধ্যে তিনটি বাড়ি এবং গাড়ি অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যগুলো প্রকাশের পর তিনি নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের অভিযানকালে গ্রেপ্তার হন।

অভিযান দল প্রথমে এটিকে সাধারণ ভিক্ষা অভিযান হিসেবে বিবেচনা করেছিল, তবে জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গিলালের আর্থিক কার্যক্রমের বিশদ প্রকাশ পায়। তার অটো রিকশা এবং গাড়ি দৈনিক ভাড়ায় দেওয়া হয়, যা অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি করে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা দিনেশ মিশ্রের মতে, মঙ্গিলালকে উজ্জয়ন সেবা ধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি এবং ঋণগ্রহীতাদের তথ্য তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঋণ গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মঙ্গিলালের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে ভিক্ষা বিরোধী আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং আর্থিক শোষণ অন্তর্ভুক্ত। তিনি যে ঋণ প্রদান করছিলেন তা স্বল্পমেয়াদী সুদের হারকে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ করে, যা আইনি দৃষ্টিতে শোষণমূলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারী সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও, মঙ্গিলালের সম্পদ ও আর্থিক কার্যক্রমের প্রকাশ তার সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন তুলেছে। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন মঙ্গিলালের সম্পত্তি তালিকা, ব্যাংক লেনদেন এবং ঋণগ্রহীতাদের বিবরণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে। সংগ্রহিত তথ্য সংগ্রাহকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা ইন্দোরে ভিক্ষা বিরোধী নীতি প্রয়োগের কঠোরতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক সহায়তার সীমা নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভিক্ষা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আর্থিক শোষণ রোধে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

অবশেষে, মঙ্গিলালের মামলায় আদালত কী রায় দেবে এবং কোন শাস্তি আরোপিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে অনুরূপ কেসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments