সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে গঠিত পে-কমিশন আগামী বুধবার, ২১ জানুয়ারি, তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করা হবে না। তিনি মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
ড. সালেহউদ্দিনের মতে, পে-কমিশনের সুপারিশ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। এই প্রক্রিয়ার শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা সাধারণত তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনীয় কারণ বিভিন্ন স্তরের অনুমোদন ও সমন্বয় কাজের জন্য সময় দরকার।
কমিশনের সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে সুপারিশ প্রস্তুত করেছেন, যা কর্মীদের সন্তোষজনক হবে বলে তারা আশা করেন। তবে ড. সালেহউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, সব চাহিদা হুবহু পূরণ করা সম্ভব না হলেও, মূল প্রয়োজন ও প্রত্যাশা সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও জানান, সুপারিশের শতভাগ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
বেতন বৃদ্ধি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন আশ্বাস দেন যে সরকার সরবরাহ শক্তি বজায় রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, ফলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, বেতন কাঠামোর পরিবর্তন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কর্মীদের মঙ্গলের দিকে লক্ষ্য রাখবে।
পে-কমিশনের কাজের পরিধি ও সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলেও, সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে সুপারিশের পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। এই অনুমোদনের পরই বাস্তবায়নের সূচনা হবে, যা সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রাখবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তবে তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন না হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারী কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারিত হলে, তা দেশের বেতন নীতি ও অর্থনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।



