বিপিএল এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে থাকায় দলনেতা ও অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস ভক্তদের সামনে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন। ম্যাচের শেষের পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় নিজের এবং দলের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সমর্থকদের উদ্দেশে ‘সরি’ বললেন।
লিটন দাসের কথায় তিনি জোর দিয়ে বললেন, “এই ম্যাচের জন্য যে উইকেটটি প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা আদর্শ ছিল না”। তিনি উইকেটের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের জন্য কোনো অজুহাত দেননি।
ব্যাটিংয়ে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে লিটন কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বললেন, “আমি আমার শটগুলো ঠিকমতো চালাতে পারিনি”। তার এই স্বীকারোক্তি দলীয় ব্যর্থতার মূল কারণকে ব্যক্তিগত দায়িত্বের দিকে সরিয়ে দেয়।
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, “শেষে ছয়টি রান খেয়ে ট্রফি জয়ের কথা মনে পড়ে—সেমি বল, সেমি জায়গা, কভার ওপরে”। এই বিবরণটি সেই সময়ের চাপপূর্ণ পরিস্থিতি এবং তার সিদ্ধান্তের প্রভাবকে তুলে ধরে।
লিটন জানান, সেই মুহূর্তে তিনি সঠিক শট নির্বাচন করতে পারেননি এবং ফলস্বরূপ দলটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে ফেলেছে। তিনি স্বীকার করেন, “সেই সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের ঘাটতি আমাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
দলের প্রস্তুতি ও মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “জীবনে সবকিছুই আদর্শ হয় না, অনেক সময় পরিস্থিতি মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়”। এই মন্তব্যটি দলের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
লিটন দাসের শেষ কথা ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগপূর্ণ। তিনি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া আমরা এখানে থাকতে পারতাম না, তাই দয়া করে আমাদের ক্ষমা করুন”। এই বার্তাটি সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার ইচ্ছা স্পষ্ট করে।
দলটি এখন এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে চায়। যদিও পরবর্তী প্রতিপক্ষ বা সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি, লিটন দাসের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে রাইডার্স দল শীঘ্রই আবার মাঠে ফিরে আসবে।
ক্যাপ্টেনের এই স্বচ্ছ স্বীকারোক্তি রাইডার্সের ভক্তদের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলেছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ ও সমন্বয় কাজের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার লক্ষ্য রাখবে।
রংপুর রাইডার্সের এই মুহূর্তটি কেবল একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, বরং দলীয় আত্মবিশ্লেষণ এবং পুনর্গঠনের সূচনা। লিটন দাসের ক্ষমা প্রার্থনা এবং স্বীকারোক্তি এই প্রক্রিয়ার মূল অংশ হিসেবে কাজ করবে।
ভক্তদের সমর্থন ও ধৈর্য্য রাইডার্সের পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে লিটন দাসের বার্তা শেষ হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আপনাদের বিশ্বাসের ওপর আমরা আবার গর্বের সঙ্গে ফিরে আসব”।



