চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (CHT) শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে সকল জাতীয় রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়েছে CHT চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। আজ প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে, যৌথ সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও প্রফেসর খায়রুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠি মাধ্যমে বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলাম, ন্যাশনাল পার্টি ও অন্যান্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্দোলন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে CHT অঞ্চলের সম্পূর্ণ শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছে। চিঠিতে CHT-কে বহু জাতিগত গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈচিত্র্যময় অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের সুযোগ সীমিত ছিল।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি, দশকের পর দশক দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাতের পর অর্জিত হলেও, তার মূল ধারাগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। আন্দোলন উল্লেখ করেছে যে, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো অবহেলিত থাকায় অঞ্চলটি এখনও সংঘাতের ঝুঁকিতে এবং আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন পাঁচটি নির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেছে। প্রথমত, দ্রুত ও সঠিক বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা নির্ধারিত একটি কর্মপরিকল্পনা গঠন। দ্বিতীয়ত, পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ী সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসন শেষ করা। তৃতীয়ত, চুক্তি অনুযায়ী CHT আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিনটি হিল জেলা পরিষদকে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে রূপান্তর করা। চতুর্থত, আদিবাসী জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মূলধারার অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। শেষমেশ, এই সকল পদক্ষেপের জন্য স্পষ্ট তদারকি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্থাপন করা।
আন্দোলন জোর দিয়ে বলেছে যে, এই সুপারিশগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোকে গম্ভীরভাবে বিবেচনা করে তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তারা উল্লেখ করেছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে ম্যানিফেস্টোতে এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হলে CHT অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষত, যদি প্রধান বিরোধী দলগুলোও এই বিষয়কে নির্বাচনী অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করে, তবে জাতীয় পর্যায়ে আদিবাসী অধিকার ও উন্নয়ন নীতির পুনর্গঠন সম্ভব হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, আন্দোলন প্রত্যাশা করছে যে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ম্যানিফেস্টোতে স্পষ্ট সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উল্লেখ করবে, যাতে নির্বাচনের পরপরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। এ ধরনের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি CHT-তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সংহতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



