দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের সম্পূর্ণতা নিশ্চিত হলে দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হবে, এ কথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আয়োজন করা ব্রিফিংয়ে জানিয়ে থাকেন।
ব্রিফিংয়ে সিইসি উল্লেখ করেন, পোস্টাল ভোটের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বাড়াবে এবং দেশের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে। তিনি বলেন, অনেক দেশ এই ধরনের ব্যবস্থা চালাতে পারেনি, আর বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
সিইসি আরও জানান, পোস্টাল ভোটের প্রথম ধাপে এখন পর্যন্ত কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হননি এবং পূর্বে পোস্টাল ভোটে কাজ করা দেশের অভিজ্ঞতা তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এখনো উন্নয়নের পথে আছি।
নতুন উদ্যোগে ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক, এ কথাও সিইসি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো ভুল হয়েছে বলে দাবি করা কঠিন, তবে সময়ের সাথে সাথে ভুল ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি উল্লেখ করে, এআইকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সিইসি জোর দিয়ে বলেন, পোস্টাল ভোটের উদ্যোগটি গত তিনটি নির্বাচনে কখনো চেষ্টা করা হয়নি, তাই এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধান উপদেষ্টা যখন এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তখনই কমিশন সাহসিকতার সঙ্গে এই ঝুঁকি গ্রহণ করে। তিনি স্বীকার করেন, এই প্রক্রিয়ায় বহু বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, তবে শপথের পর থেকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোকে পোস্টাল ভোটের কার্যপ্রণালী, সময়সীমা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। দলগুলোর প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে সিইসি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জানান যে ভোটারদের পরিচয় যাচাই, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ভোটের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিইসি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধাপই স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ উন্নত হবে, পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার সুযোগও মিলবে। সিইসি বলেন, যদি পোস্টাল ভোট সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হবে।
ভবিষ্যতে পোস্টাল ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে। সিইসি উল্লেখ করেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে আরও কার্যকর এবং নিরাপদ ভোটিং পদ্ধতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ব্রিফিং শেষে সিইসি সকল রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আহ্বান জানান এবং পোস্টাল ভোটের সফলতা দেশের গর্বের বিষয় হবে, এ কথায় সমাপ্তি টানেন।



