বিএলপি (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) এর ১২তম সংস্করণে সিলেট টাইটান্স রঙপুর রাইডার্সকে শেষ বলের ছয় দিয়ে পরাজিত করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অল-রাউন্ডার ক্রিস ওয়েকসের প্রথম ম্যাচে এই নাটকীয় শেষ মুহূর্তটি ঘটেছে, যা শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হয়। টাইটান্সের এই জয় তাদের শীর্ষে পৌঁছানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, আর ওয়েকসের পারফরম্যান্সই ম্যাচের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিএলপিতে প্লে-অফের আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে, তবে প্রত্যেকেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না। সিলেট টাইটান্সের ক্ষেত্রে, ওয়েকসের আগমনই দলকে তাত্ক্ষণিক প্রভাব দেখিয়েছে। তিনি রবিবারই ঢাকায় পৌঁছে দুইটি প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নেন, এরপর মঙ্গলবারই তার ডেবিউ ম্যাচে মাঠে নামেন।
বোলিংয়ে ওয়েকসের পারফরম্যান্স চমকপ্রদ ছিল। তিনি চার ওভারে মাত্র ১৫ রান conced করে দুইটি উইকেট নেন, যার মধ্যে ডেভিড মালান এবং আলিস আল ইসলাম। এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের মাধ্যমে রঙপুর রাইডার্সের স্কোর ১১১ রান ছয়-নয় আউটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। টাইটান্স প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল, যা তাদের রক্ষামূলক পরিকল্পনার সফলতা প্রমাণ করে।
বাটিংয়ে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। স্যাম বিলিংস ৪০ ball-এ ২৯ রান করে মাঝপথে আউট হন, যখন মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম ball-এ শেষ ওভারের আগে তাকে বাদ দেন। এরপর টাইটান্সকে ১১ ball-এ ১৫ রান সংগ্রহ করতে হয়, এবং মোইন আলি সেই মুহূর্তে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। শেষের দিকে স্কোরের সমীকরণ ছয়টি রান শেষ ball-এ কমিয়ে দেয়, এবং ওয়েকসই শেষ ball-এ strike-এ ছিলেন।
রঙপুরের অল-রাউন্ডার ফাহিম আশরাফ শেষ over-এ প্রথম পাঁচটি ball-এ মাত্র তিন রানই দেন, তবে চতুর্থ ball-এ মোইন আলিকে আউট করে টাইটান্সের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেন। ওয়েকস তখন চারটি ball-এ চারটি রান করে শেষ ball-এ পুরো length-এর ball-কে অতিরিক্ত কভারের দিকে ছুঁড়ে ছয়টি রান সংগ্রহ করেন। এই শেষ মুহূর্তের ছয়টি রানই টাইটান্সকে তিন wicket-এ জয় এনে দেয়।
পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সে ওয়েকস উল্লেখ করেন, এই জয় তার জন্য বিশেষ কারণ তিনি পূর্বে অনুরূপ পরিস্থিতিতে সফল হতে পারেননি। তিনি বলেন, শেষ ball-এ ছয়টি হিট করা তার জন্য একটি স্বপ্নের মতো মুহূর্ত, যা তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
সিলেট টাইটান্সের এই জয় তাদের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে, যেখানে তারা পরবর্তী ম্যাচে শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য আরও একটিমাত্র সুযোগ পাবে। দলটি এখন রঙপুর রাইডার্সের পরাজয়ের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, এবং ওয়েকসের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
বিএলপি শিডিউল অনুযায়ী, সিলেট টাইটান্সের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে তারা শীর্ষ চার দলের মধ্যে স্থান নিশ্চিত করার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। টিমের কোচ এবং খেলোয়াড়রা ওয়েকসের অবদানকে প্রশংসা করে, এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।



